গ্যাসের চুলার দাম ২০২৬ বাংলাদেশ সকল ব্র্যান্ড

গ্যাসের চুলার দাম ২০২৬ | সকল ব্র্যান্ডের সিঙ্গেল ও ডাবল চুলার বর্তমান মূল্য তালিকা

গত মাসে আমার রান্নাঘরের পুরনো চুলাটা একেবারে বিগড়ে গেল। বার্নার ঠিকঠাক জ্বলছে না, আগুনটা নীল না হয়ে হলদেটে হয়ে আসছে। মানে বুঝলেন তো? নতুন চুলা কেনার সময় হয়ে গেছে।

বাজারে গেলাম। কিন্তু দোকানদার যা দাম বলছে আর অনলাইনে যা দেখছি, মিলছেই না। একটু ঘোরাঘুরি করে বুঝলাম, ২০২৬ সালে গ্যাসের চুলার বাজারে বেশ পরিবর্তন এসেছে। নতুন মডেল এসেছে, দামও একটু নড়াচড়া করেছে।

তাই ভাবলাম, আমি যেটা নিজে খুঁজে পেলাম সেটা আপনাদের সাথেও শেয়ার করি। এই পোস্টে পাবেন ২০২৬ সালে বাংলাদেশে সব ব্র্যান্ডের গ্যাসের চুলার দাম, কোনটা কিনলে ভালো হবে এবং কেনার সময় কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা দরকার।

গ্যাসের চুলার দাম ২০২৬ এক নজরে

আগে একটু সারসংক্ষেপ বলে নিই, যাতে আপনি যদি তাড়ায় থাকেন তাহলেও কাজ চলে যায়।

২০২৬ সালে বাংলাদেশে গ্যাসের চুলার দাম মোটামুটি এরকম:

ধরন দামের রেঞ্জ
সিঙ্গেল বার্নার ১,৩০০ – ৩,০০০ টাকা
ডাবল বার্নার (স্টিল) ২,৫০০ – ৬,৫০০ টাকা
ডাবল বার্নার (গ্লাস টপ) ৫,০০০ – ১০,০০০ টাকা
ট্রিপল বার্নার ৫,০০০ – ১৫,০০০ টাকা
ইনফ্রারেড চুলা ৪,৫০০ – ৮,০০০ টাকা

এবার বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়া যাক।

RFL গ্যাসের চুলার দাম ২০২৬

আরএফএল মানেই যেন বিশ্বাস। বাংলাদেশের গ্রামে শহরে সব জায়গায় এই ব্র্যান্ডের চুলা দেখা যায়। আমার মায়ের রান্নাঘরেও আরএফএলের চুলা আছে, প্রায় ৭ বছর ধরে একই চুলায় রান্না হচ্ছে।

আরএফএলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বার্নারগুলো পিতলের তৈরি, যেটা অনেক টেকসই। আর পরিষ্কার করা সহজ।

RFL সিঙ্গেল গ্যাসের চুলার দাম:

  • RFL Single SS Auto Gas Stove (NG): প্রায় ১,৪৫০ টাকা
  • RFL Single SS Auto Gas Stove (LPG): প্রায় ১,৫০০ – ১,৮০০ টাকা

RFL ডাবল গ্যাসের চুলার দাম:

  • RFL Double Burner Gas Stove (সাধারণ): ২,৫০০ – ৩,২০০ টাকা
  • RFL Double Burner Stainless Steel: ৩,৫০০ – ৫,৫০০ টাকা
  • RFL উন্নত মডেল (গ্লাস টপ সহ): ৬,০০০ – ১১,০০০ টাকা

একটা টিপস দিই। আরএফএলের অফিশিয়াল শোরুম থেকে কিনলে সাথে ১ বছরের ওয়ারেন্টি পাবেন। বাইরের দোকান থেকে কিনলে সেটা নাও পেতে পারেন।

Walton গ্যাসের চুলার দাম ২০২৬ | ওয়ালটন চুলার আজকের দাম

ওয়ালটন এখন বাংলাদেশের এক নম্বর ইলেকট্রনিক ব্র্যান্ড। তাদের গ্যাসের চুলায় অটো স্পার্ক সিস্টেম আছে, মানে দেশলাই লাগে না। এটাই ওয়ালটনের চুলা কেনার সবচেয়ে বড় কারণ।

আমার বড় ভাই ওয়ালটনের গ্লাস টপ চুলা কিনেছে গত বছর। বলে দিচ্ছে রান্নাঘরটা দেখতেও সুন্দর লাগছে, চুলা পরিষ্কার করাও অনেক সহজ।

Walton সিঙ্গেল গ্যাসের চুলার দাম:

  • WGS-SSH90 (LPG) — প্রায় ১,২০০ – ১,৫০০ টাকা
  • WGS-SGC1 (LPG) — প্রায় ২,২০০ – ২,৮০০ টাকা

এবার Walton ডাবল গ্যাসের চুলার দাম:

  • WGS-DSC2 LPG (সাধারণ স্টিল) — ২,৬৬০ – ২,৮৯০ টাকা
  • WGS-GDB10R (LPG) — ৪,৮০০ – ৫,৪০০ টাকা
  • WGS-GDC10 (গ্যাস লিক প্রটেকশন সহ) — প্রায় ৩,৮০০ টাকা

Walton গ্লাস টপ ডাবল চুলার দাম:

  • গ্লাস টপ ডাবল বার্নার — ৩,৯৯০ – ৫,৭৯০ টাকা
  • প্রিমিয়াম গ্লাস টপ — ৬,৯৯০ – ১৪,৯৯০ টাকা

বিশেষ সুবিধা: ওয়ালটন ই-প্লাজা থেকে কিনলে অনেক সময় ১০-১১% ছাড় পাওয়া যায়। কেনার আগে তাদের অফিশিয়াল সাইট চেক করুন।

Gazi গ্যাসের চুলার দাম ২০২৬ | গাজী চুলার মূল্য তালিকা

গাজী মানে দেশীয় মানসম্পন্ন পণ্য। গাজীর চুলাগুলো একটু হেভি টাইপের, মানে কাস্ট আয়রনের বার্নার থাকে যেটা দীর্ঘস্থায়ী।

Gazi সিঙ্গেল গ্যাসের চুলার দাম:

  • GST-1068A (একক বার্নার): ১,৫০০ – ২,০০০ টাকা
  • সাধারণ সিঙ্গেল: ১,৩০০ – ২,৮০০ টাকা

তাহলে Gazi ডাবল গ্যাসের চুলার দাম?:

  • GST-2068A (ডাবল বার্নার): ৩,৫০০ – ৪,২০০ টাকা
  • Gazi ডাবল স্টেইনলেস স্টিল: ৩,৮০০ – ৬,০০০ টাকা

Gazi গ্লাস টপ চুলার দাম:

  • Gazi Glass Top Gas Stove: ৬,০০০ – ৮,০০০ টাকা

Gazi ট্রিপল বার্নারের দাম:

  • GST-3068A: ৫,০০০ – ৬,৫০০ টাকা

গাজীর চুলার একটা সুবিধা হলো যে দেশের প্রায় সব উপজেলায় সার্ভিস সেন্টার আছে। তাই মেরামতের বিষয়ে চিন্তা নেই।

Singer গ্যাসের চুলার দাম ২০২৬

সিঙ্গার একটু বেশি পরিচিত ইলেকট্রনিক্সে, কিন্তু তাদের গ্যাসের চুলাও বাজারে বেশ ভালো।

মডেল দাম (আনুমানিক)
Singer STT5128BTX ৪,৫০০ টাকা
Singer SRGB-STT-G50L ৪,০৯০ টাকা
Singer SRGB-STT-G40L ৪,০৯০ টাকা
Singer SRGB-STT-2040SN ৩,৩৯০ টাকা
Singer SRGB-STT-2040SL ৩,৩৯০ টাকা

সিঙ্গারের চুলার ফিনিশিং বেশ ভালো। দেখতে একটু বেশি প্রিমিয়াম লাগে।

ইনফ্রারেড গ্যাসের চুলার দাম ২০২৬ | Infrared চুলা কেন কিনবেন?

এখন অনেকেই ইনফ্রারেড চুলার দিকে ঝুঁকছেন। এই চুলায় খোলা আগুন থাকে না, বরং একটা সিরামিক প্লেট লাল হয়ে গরম হয়।

ইনফ্রারেড চুলার সুবিধা কী কী?

১. গ্যাস বাঁচে প্রায় ৩০% পর্যন্ত। সাধারণ চুলায় আগুন চারপাশে ছড়ায়, অনেকটা গ্যাস নষ্ট হয়। ইনফ্রারেডে তাপ সরাসরি পাত্রে যায়।

২. বাতাসে আগুন নেভে না। যারা বাইরে রান্না করেন বা রান্নাঘরে ভেন্টিলেশন বেশি থাকে, তাদের জন্য এটা বড় সুবিধা।

৩. পরিষ্কার করা সহজ। কোনো গর্ত বা জালি নেই যেখানে তেল-ময়লা জমে।

ইনফ্রারেড গ্যাসের চুলার দাম ২০২৬:

  • সাধারণ ইনফ্রারেড সিঙ্গেল: ৪,৫০০ – ৬,০০০ টাকা
  • ইনফ্রারেড ডাবল বার্নার: ৬,০০০ – ৮,০০০ টাকা

একটা কথা বলে রাখি। ইনফ্রারেড চুলায় সব ধরনের পাত্র ব্যবহার করা যায় না এমন নয়, কিন্তু ফ্ল্যাট বটম পাত্র ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাবেন।

সিলিন্ডার সহ গ্যাসের চুলার দাম ২০২৬ | একসাথে কিনলে কত লাগে?

অনেকে নতুন বাসায় উঠছেন বা প্রথমবার চুলা কিনছেন। তাদের সিলিন্ডারসহ পুরো সেটআপের দাম জানা দরকার।

সিলিন্ডারের বর্তমান দাম (২০২৬):

  • ১২ কেজি LPG সিলিন্ডার (রিফিল): প্রায় ১,৪৫০ টাকা
  • নতুন সিলিন্ডার (সিকিউরিটি ডিপোজিট সহ): ১,৬০০ – ১,৭০০ টাকা

সিলিন্ডারসহ গ্যাসের চুলার মোট খরচ:

সেটআপ আনুমানিক মোট খরচ
সিঙ্গেল চুলা + সিলিন্ডার (আরএফএল) ৩,০০০ – ৩,৫০০ টাকা
ডাবল চুলা + সিলিন্ডার (মিড রেঞ্জ) ৪,৫০০ – ৫,৫০০ টাকা
ডাবল চুলা + সিলিন্ডার (ওয়ালটন/গাজী) ৫,৫০০ – ৮,০০০ টাকা

সাথে রেগুলেটর আর পাইপও কিনতে হবে। সেটা আরো ২০০ – ৪০০ টাকার মতো।

Glass Top গ্যাসের চুলার দাম ২০২৬ | গ্লাস টপ চুলা কি সত্যিই ভালো?

রান্নাঘর দেখতে সুন্দর করতে চাইলে গ্লাস টপ চুলার জুড়ি নেই। কালো বা সাদা টেম্পার্ড গ্লাসের উপরে বার্নার, দেখতে একদম আধুনিক।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, দাম বেশি দিয়ে কি সত্যিই লাভ আছে? চলুন দেখে নেওয়া যাক।

প্রথমে গ্লাস টপ চুলার সুবিধা:

  • দেখতে প্রিমিয়াম লাগে, রান্নাঘরের সৌন্দর্য বাড়ে
  • পরিষ্কার করা খুব সহজ, কারণ সমতল সারফেস
  • স্থায়িত্ব ভালো যদি সাবধানে ব্যবহার করা হয়

গ্লাস টপ চুলার অসুবিধা:

  • ভারী কিছু পড়লে গ্লাস ভেঙে যেতে পারে
  • সাধারণ চুলার চেয়ে দাম বেশি

গ্লাস টপ গ্যাসের চুলার দাম ২০২৬:

  • ওয়ালটন গ্লাস টপ ডাবল: ৩,৯৯০ – ৫,৭৯০ টাকা
  • গাজী গ্লাস টপ: ৬,০০০ – ৮,০০০ টাকা
  • প্রিমিয়াম ওয়ালটন গ্লাস টপ: ৬,৯৯০ – ১৪,৯৯০ টাকা

আমার মতে, মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ৪,০০০ – ৬,০০০ টাকার গ্লাস টপ চুলা কিনলে সুবিধাজনক। এর উপরে গেলে প্রিমিয়াম ফিচার পাবেন, কিন্তু সেগুলো সবার দরকার নাও হতে পারে।

গ্যাসের চুলা কেনার আগে যা যা জানা দরকার

বাজারে গেলে মাথা ঘুরে যায়। এত মডেল, এত ব্র্যান্ড। কোনটা কিনবেন বুঝতে পারছেন না? এই কয়েকটা বিষয় মাথায় রাখুন।

১. পরিবারের সদস্য সংখ্যা দেখুন ২-৩ জনের পরিবার হলে সিঙ্গেল বার্নারেও চলে। ৪ জনের বেশি হলে ডাবল বার্নার নেওয়াই ভালো। রান্নার চাপ বেশি থাকলে ডাবলে একসাথে দুটো কাজ হয়।

২. গ্যাসের ধরন ঠিক করুন আগে আপনার বাসায় পাইপলাইন গ্যাস (NG) আছে নাকি সিলিন্ডার গ্যাস (LPG)? দুটোর জন্য চুলার নজেল আলাদা। কেনার সময় ব্যাপারটা দোকানদারকে জানান।

৩. অটো ইগনিশন নাকি ম্যানুয়াল? অটো ইগনিশন মানে বোতাম চাপলেই জ্বলে, দেশলাই লাগে না। একটু বেশি দাম হলেও এটা নেওয়া উচিত, কারণ গ্যাসে হাত দিতে দেশলাই লাগানোর ঝামেলা নেই।

৪. বডি মেটেরিয়াল কী? স্টেইনলেস স্টিল সবচেয়ে ভালো। জং ধরে না, দীর্ঘস্থায়ী। কম দামের চুলায় পাউডার কোটেড আয়রন থাকে, সেটা কিছুদিন পর জং ধরতে পারে।

৫. ওয়ারেন্টি চেক করুন ভালো ব্র্যান্ডের চুলায় ১ বছরের ওয়ারেন্টি থাকে। ওয়ারেন্টি কার্ড ছাড়া চুলা কিনবেন না।

৫,০০০ টাকার মধ্যে সেরা গ্যাসের চুলা কোনটা?

অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, ৫ হাজার টাকার মধ্যে ভালো চুলা কোনটা পাব?

আমার পছন্দের তালিকা:

১. ওয়ালটন WGS-GDB10R LPG — প্রায় ৪,৮০০ – ৫,৪০০ টাকা দেশের সবচেয়ে বিক্রি হওয়া মডেলগুলোর মধ্যে একটা। অটো স্পার্ক আছে, স্টেইনলেস স্টিল বডি। ১ বছরের ওয়ারেন্টি।

২. গাজী GST-2068A প্রায় ৩,৫০০ – ৪,২০০ টাকা বাজেট একটু কম হলে এটা ভালো অপশন। টেকসই, কাস্ট আয়রন বার্নার।

৩. আরএফএল ডাবল বার্নার স্টেইনলেস  প্রায় ৩,৫০০ – ৪,৫০০ টাকা আরএফএলের রিপেয়ার নেটওয়ার্ক সারা দেশে ছড়ানো, তাই যেকোনো সমস্যায় সার্ভিস পাবেন।

গ্যাসের চুলা কোথায় কিনবেন? অনলাইন নাকি দোকান?

এটা নিয়ে অনেকের মনে দ্বিধা থাকতেই পারে তবে আমি ক্লিয়ার করছি দেখুন।

দোকান থেকে কিনলে ভালো হবে কারণ: চুলা দেখে, ধরে, চেক করে কিনতে পারবেন, দোকানদারের সাথে দাম দর করাতে পারবেন, আর ওয়ারেন্টি কার্ড সঠিকভাবে বুঝে নিতে পারবেন।

অনলাইনে কিনলেও ভালো কারণ: অনেক সময় ১০-১৫% ছাড় পাওয়া যায়, ঘরে বসেই অর্ডার করা যায়, রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

আমার পরামর্শ হলো অনলাইনে মডেল সিলেক্ট করুন, দাম জানুন। তারপর কাছের শোরুমে গিয়ে মিলিয়ে দেখুন। যদি দাম একই বা কাছাকাছি থাকে তাহলে শোরুম থেকেই নিন।

গ্যাসের চুলা দীর্ঘদিন ভালো রাখার উপায়

চুলা কেনার পর যত্ন না নিলে ২ বছরেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অথচ সঠিক যত্নে একই চুলা ৫-৮ বছরও চলে।

কিছু টিপস দিলাম ফ্রি:

রান্না করার পরে বার্নার ঠান্ডা হলে একটু ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিন। তেল জমা হলে পরে পরিষ্কার করা অনেক কঠিন হয়। নয়তো পরে আমার মত পস্তাতে হতে পারে।

বার্নারের মাথা (ক্যাপ) মাঝে মাঝে খুলে আলাদা করে ধুয়ে নিন। এতে আগুন সমান হয়ে জ্বলবে।

চুলার গর্তে পানি ঢোকা থেকে বাঁচান। রান্নার সময় হাঁড়ি উপচে পড়লে বার্নারের ভেতরে পানি ঢুকে সমস্যা হয়।

গ্যাস সংযোগের পাইপ আর রেগুলেটর বছরে একবার চেক করুন। পুরনো হলে বদলে নিন।

আমার প্রিয় কিছু কথা

গ্যাসের চুলা কিনতে গিয়ে আমি যে ভুলটা করেছিলাম সেটা হলো শুধু দাম দেখে কিনেছিলাম। সবচেয়ে সস্তাটা নিয়ে এসেছিলাম, ৬ মাসেই বার্নার নষ্ট।

তারপর একটু বেশি দিয়ে আরএফএলের ডাবল বার্নার নিলাম। সেটা এখনো ভালো আছে, প্রায় ৪ বছর হলো।

তাই বলব, গ্যাসের চুলায় একটু বেশি বিনিয়োগ করুন। ৩,৫০০ – ৫,০০০ টাকার মধ্যে ভালো মানের চুলা পাওয়া যায়। সেই টাকাটা দিলে ৫-৭ বছর নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন।

আর কেনার আগে অবশ্যই ওয়ারেন্টি কার্ড চেক করুন। সার্ভিস সেন্টার কাছে আছে কিনা সেটাও জেনে নিন।

কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করুন। চেষ্টা করব সাহায্য করতে।

গ্যাসের চুলা নিয়ে সচরাচর যেসব প্রশ্ন আসে

প্রশ্ন ১: ২০২৬ সালে ডাবল গ্যাসের চুলার দাম কত? উত্তর: বাংলাদেশে ডাবল গ্যাসের চুলার দাম সাধারণ মডেলে ২,৫০০ টাকা থেকে শুরু হয় আর ভালো মানের গ্লাস টপ মডেল ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত যায়।

প্রশ্ন ২: ওয়ালটন না আরএফএল, কোন ব্র্যান্ডের চুলা ভালো? উত্তর: দুটোই ভালো। ওয়ালটনের অটো ইগনিশন সুবিধা আছে আর ডিজাইন আধুনিক। আরএফএলের সার্ভিস নেটওয়ার্ক দেশজুড়ে বেশি, মানে মেরামতের ব্যবস্থা সহজ।

প্রশ্ন ৩: সিলিন্ডারসহ গ্যাসের চুলা কিনতে মোট কত লাগে? উত্তর: নতুন সিলিন্ডার (ডিপোজিট সহ) ১,৬০০-১,৭০০ টাকা আর ডাবল বার্নার চুলা ৩,০০০-৫,০০০ টাকার মধ্যে পাবেন। মোট ৫,০০০ – ৭,০০০ টাকার মধ্যে পুরো সেটআপ হয়ে যায়।

প্রশ্ন ৪: গ্লাস টপ চুলা কি টেকসই? উত্তর: সাবধানে ব্যবহার করলে গ্লাস টপ অনেকদিন টেকে। তবে ভারী জিনিস পড়লে বা হঠাৎ ঠান্ডা পানি পড়লে গ্লাস ফেটে যেতে পারে।

প্রশ্ন ৫: ইনফ্রারেড চুলা কি সাধারণ চুলার চেয়ে ভালো? উত্তর: গ্যাস বাঁচানোর দিক থেকে ইনফ্রারেড চুলা এগিয়ে, প্রায় ৩০% গ্যাস কম লাগে। তবে দাম একটু বেশি, ৪,৫০০ – ৮,০০০ টাকা।

প্রশ্ন ৬: চুলা কেনার পর কোথায় সার্ভিস পাব? উত্তর: ওয়ালটন, আরএফএল, গাজী — এই তিনটি ব্র্যান্ডের সার্ভিস সেন্টার সারা বাংলাদেশে আছে। কেনার সময় সার্ভিস সেন্টারের নম্বর নিয়ে রাখুন।

বিঃদ্রঃ বাজার প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। কেনার আগে নিকটস্থ শোরুম বা অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ দাম যাচাই করে নিন।

Scroll to Top