আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা! কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। ‘আমার প্রিয়’ পরিবারের পক্ষ থেকে আমি আজ আপনাদের সাথে স্টুডেন্ট ব্যাংক একাউন্ট বিষয় নিয়ে কথা বলব, যেটা ছাত্রজীবনে আমাদের সবারই খুব দরকারি কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে আমরা অনেকেই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।
সো আজকের টপিক হলো স্টুডেন্ট ব্যাংক একাউন্ট।
আমি জানি, আপনারা যারা স্কুল, কলেজ বা ভার্সিটিতে পড়ছেন, তাদের অনেকেরই টিউশনি বা পকেট মানি থেকে কিছু টাকা জমে যায়। আবার অনেকেই এখন পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করছেন। কিন্তু এই টাকাটা বালিশের নিচে বা মাটির ব্যাংকে রাখাটা কি বুদ্ধিমানের কাজ? একদমই না! টাকাটা নিরাপদে রাখতে এবং ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে একটা ব্যাংক একাউন্ট থাকা মাস্ট।
আমি যখন স্টুডেন্ট ছিলাম, তখন সঠিক গাইডলাইনের অভাবে ভুল একাউন্ট খুলে অনেক চার্জ গুনেছিলাম। আপনারা যেন সেই ‘প্যারা’ না খান, তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানাবো ছাত্রছাত্রীদের জন্য সেরা ব্যাংক একাউন্ট ২০২৬ সালে কোনটি হতে পারে এবং কীভাবে একাউন্ট খুলবেন। চলুন শুরু করা যাক।
স্টুডেন্ট একাউন্ট কি?
প্রথমেই বলি, সাধারণ সেভিংস একাউন্ট আর স্টুডেন্ট একাউন্টের মধ্যে তফাৎ আছে। ব্যাংকগুলো জানে যে স্টুডেন্টদের ইনকাম সোর্স লিমিটেড। তাই তারা স্পেশাল কিছু সুবিধা দেয়, যেমন:
-
জিরো বা নামমাত্র মেইনটেইনেন্স চার্জ: বছরে চার্জ খুবই কম কাটে।
-
কম জমার সুবিধা: ১০০ বা ৫০০ টাকা দিয়েই একাউন্ট খোলা যায়।
-
ডেবিট কার্ড ও চেকবুক: এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা বা শপিং করার সুবিধা।
-
ইন্টারনেট ব্যাংকিং: ঘরে বসেই অ্যাপ দিয়ে মোবাইল রিচার্জ বা বিকাশ/নগদে টাকা আনা যায়।
২০২৬ সালে Student জন্য সেরা কয়েকটি ব্যাংক
বাজারে তো অনেক ব্যাংক আছে, কিন্তু সব ব্যাংক কি স্টুডেন্ট ফ্রেন্ডলি? একদমই না। আমার এবং আমার পরিচিত অনেকের অভিজ্ঞতা থেকে সেরা ৩টি ব্যাংকের কথা নিচে সাজিয়ে দিলাম:
১. ডাচ-বাংলা ব্যাংক (DBBL) স্টুডেন্ট একাউন্ট
গ্রাম থেকে শহর সব জায়গাতেই Dutch Bangla Bank-এর বুথ পাওয়া যায় এটা আমাদের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট। এদের ‘স্কুল সেভার’ বা ‘কলেজ সেভার’ একাউন্ট বেশ ভালোই।
এই ব্যাংকে ফাস্ট ট্র্যাক এটিএম বেশি, টাকা জমা ও তোলা সহজ। রকেট অ্যাপের সাথে লিঙ্ক করা যায় খুবই সহজে।
সতর্কতা: এদের ব্রাঞ্চে সবসময় ভিড় থাকে, তাই একটু সময় নিয়ে যেতে হবে। আর বাৎসরিক চার্জটা খোলার সময় ভালো করে জেনে নেবেন, মাঝে মাঝে এরা পলিসি চেঞ্জ করে।
২. ইসলামী ব্যাংক (IBBL) স্টুডেন্ট মুদারাবা একাউন্ট
যারা সুদমুক্ত ব্যাংকিং পছন্দ করেন এবং হালাল ভাবে টাকা জমাতে চান, তাদের জন্য হতে পারে এটি সেরা ব্যাংক। কারন এদরে কোনো হিডেন চার্জ নেই বললেই চলে।
এদের সেলফিন (CellFin) অ্যাপটা এক কথায় দারুণ! আপনি একাউন্ট না খুলে শুধু অ্যাপ দিয়েও অনেক কাজ সারতে পারবেন। আর একাউন্ট থাকলে তো কথাই নেই, ফ্রিল্যান্সিং পেমেন্ট আনতেও সুবিধা।
চার্জ: স্টুডেন্ট একাউন্টে সরকারি ভ্যাট ছাড়া ব্যাংক চার্জ নেই বললেই চলে।
৩. ব্র্যাক ব্যাংক (BRAC Bank) আগামী একাউন্ট
যারা একটু প্রিমিয়াম সার্ভিস চান এবং ফিউচারে বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের ‘আগামী’ (Agami) স্কিমটি ভালো
কারণ: এদের কাস্টমার সার্ভিস খুব ফাস্ট। মাল্টি-কারেন্সি ডেবিট কার্ড দেয়, যা দিয়ে অনলাইনে কেনাকাটা করা সহজ (পাসপোর্টে এনডোর্সমেন্ট সাপেক্ষে)।
মানে প্লে-স্টোর থেকে, বা বিভিন্ন অ্যাপ এর সাবস্ক্রিপশন কিনতে পারবেন। তবে এটার খরচ অন্যগুলোর তুলনায় সামান্য একটু মেইনটেইনেন্স কস্ট থাকতে পারে, তবে সার্ভিসের তুলনায় সেটা ঠিক আছে।
স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে কী কী লাগে?
বন্ধুরা, ব্যাংকে যাওয়ার আগে নিচের কাগজগুলো গুছিয়ে নিয়ে যাবেন, নাহলে কিন্তু ফিরে আসতে হবে! আর সেটা খুবই বিরক্তিকর ব্যাপার
আমি সেটা জানি কারন আমি তাই করে ফেলেছিলাম। আসলে তখন তো আমি জানতাম না যে এই বিষয়ে পরে গিয়ে ঘুরে এসে আবার যায়। তবে আমি দিয়েই দিলাম আপনাদের Student account খুলতে কি কি লাগবে এবং যেন আবার আপনার না ঘুরে আসতে হয়।
১. আপনার ছবি: সাধারণত ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগে (সদ্য তোলা হলে ভালো)।
২. স্টুডেন্ট আইডি কার্ড: এটিই আপনার প্রধান পরিচয়। আইডি কার্ড না থাকলে প্রত্যয়ন পত্র বা বেতনের রসিদ নিলেও কাজ হয়।
৩. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধন: আপনার এনআইডি না থাকলে জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং বাবা-মায়ের এনআইডি কপি লাগবে।
৪. নমিনি: যাকে নমিনি করবেন (বাবা, মা বা ভাই-বোন), তার ১ কপি ছবি এবং এনআইডি কার্ডের ফটোকপি।
একাউন্ট খোলার প্রসেস (ধাপে ধাপে)
১. প্রথমে আপনার পছন্দের ব্যাংকের নিকটস্থ ব্রাঞ্চে যান। হেল্প ডেস্কে গিয়ে বলুন, আমি একটি স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে চাই।
২. তারা আপনাকে একটি ফর্ম দেবে। ফর্মটি ঠান্ডা মাথায় পূরণ করুন। বানানে যেন ভুল না হয়। সাইন বা স্বাক্ষরটা মনে রাখবেন, কারণ টাকা তোলার সময় এই সাইন হুবহু মিলতে হবে।
৩. কাগজপত্র জমা দিন এবং প্রাথমিক জমার টাকা (যেমন ৫০০ টাকা) কাউন্টারে জমা দিন।
৪. ব্যাস! আপনার একাউন্ট রেডি। চেক বই এবং এটিএম কার্ড আসতে ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে। দয়াকরে কার্ড পিন সেট করার সময় কারো সাথে শেয়ার করবেন না।
আমার কিছু পার্সোনাল টিপস (অভিজ্ঞতা থেকে)
যদিও বছরে ২০০-৩০০ টাকা কাটতে পারে, কিন্তু একাউন্টে টাকা ঢুকল কি বের হলো তা জানার জন্য SMS অ্যালার্ট চালু রাখাটা খুব জরুরি।
একাউন্ট খোলার সময় অবশ্যই ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা ব্যাংকের অ্যাপের এক্সেস নিয়ে নেবেন। এতে ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কষ্টটা অনেক কমে যাবে।
স্টুডেন্ট একাউন্টে অনেক সময় তো চেকবুক দিতেই চায় না, কিন্তু আপনি চাইলে রিকোয়েস্ট করে নিতে পারেন। তবে চেকবুক সাবধানে রাখবেন। মানে চেক বই যত্ন করে রাখবেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
Student একাউন্ট নিয়ে আপনাদের মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খায় জানি। তাই নিচে সবচেয়ে কমন কিছু প্রশ্নের উত্তর সহজ ভাষায় দেওয়া হলো:
আমার বয়স ১৮ বছরের নিচে, আমি কি স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে পারব?
উত্তর: জ্বি, অবশ্যই পারবেন! তবে ১৮ বছরের নিচে হলে সেটাকে সাধারণত ‘স্কুল ব্যাংকিং’ বা ‘মাইনর একাউন্ট’ বলা হয়। এক্ষেত্রে একাউন্টটি আপনার নামে হলেও এটি পরিচালনা করবেন আপনার অভিভাবক (বাবা বা মা)। ১৮ বছর পূর্ণ হলে এটি সাধারণ স্টুডেন্ট একাউন্টে কনভার্ট করে নিতে পারবেন। কোনো টেনশন নেই।
স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে কি টিন (TIN) সার্টিফিকেট লাগে?
উত্তর: না ভাইয়া, স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলার সময় টিন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক না। তবে আপনি যদি জমানো টাকার ওপর ব্যাংক যে মুনাফা বা ইন্টারেস্ট দেয়, সেখান থেকে সরকারি ট্যাক্স ১৫% এর বদলে ১০% কাটাতে চান, তাহলে টিন সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। তবে শুরুতে না দিলেও সমস্যা নেই।
স্টুডেন্ট একাউন্টে কি ফ্রিল্যান্সিং-এর টাকা আনা যায়?
উত্তর: দারুণ প্রশ্ন! হ্যাঁ, আনা যায়। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক বা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের স্টুডেন্ট একাউন্টে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে টাকা আনতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। তবে টাকার অংক যদি অনেক বড় হয়, তাহলে ব্যাংক মাঝেমধ্যে আয়ের উৎস জানতে চাইতে পারে।
একাউন্ট মেইনটেইনেন্স চার্জ বা বাৎসরিক খরচ কত?
উত্তর: এটা ব্যাংকভেদে ভিন্ন হয়। তবে বেশিরভাগ স্টুডেন্ট একাউন্টে বাৎসরিক চার্জ নেই বললেই চলে। শুধু সরকারি ভ্যাট বা আবগারি শুল্ক বাবদ বছরে হয়তো ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কাটতে পারে। একাউন্ট খোলার সময় ব্যাংকের অফিসারের কাছ থেকে বর্তমান চার্জের তালিকাটা চেয়ে দেখে নেবেন।
চেকবুক বা ডেবিট কার্ড হারিয়ে গেলে কী করব?
উত্তর: এমন হলে মোটেও দেরি করবেন না। সাথে সাথে ব্যাংকের হেল্পলাইন নম্বরে কল করে কার্ডটি ব্লক করে দেবেন। তারপর সময় সুযোগ বুঝে ব্রাঞ্চে গিয়ে নতুন কার্ড বা চেকবুকের জন্য আবেদন করবেন। একটু সাবধান থাকাই ভালো, তাই না?
শেষ কথা
আমার মতে টাকা জমানোর অভ্যাসটা ছাত্রজীবন থেকেই শুরু করা উচিত। মাস শেষে ২০০ টাকা বাঁচলেও সেটা ব্যাংকে রেখে দিন। বছর শেষে দেখবেন সেটাই অনেক বড় অ্যামাউন্ট হয়ে গেছে। আর স্টুডেন্ট ব্যাংক একাউন্ট খোলার সময় অবশ্যই ব্যাংকের অফিসারের সাথে চার্জের বিষয়ে খোলামেলা কথা বলে নেবেন। কারণ একেক সময় ব্যাংকের অফার একেক রকম থাকে।
এই আরটিকেলটি পড়ে যদি মনে হয় আপনার উপকার হয়েছে, তাহলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আর কোন ব্যাংকের সার্ভিস আপনার ভালো লাগে বা কোন প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে আমাকে জানাতে পারেন। আমি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং আমার প্রিয় ডট কমের সাথেই থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
এসইও ডাটা (SEO Data):
-
হাই সার্চ ভলিউম কিওয়ার্ড: স্টুডেন্ট ব্যাংক একাউন্ট, Student Bank Account BD, সেরা ব্যাংক একাউন্ট।


