রমজান ক্যালেন্ডার ২০২৬ সেহরি ও ইফতারের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি

রমজান ক্যালেন্ডার ২০২৬ | সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ও রোজার জরুরি মাসয়ালা

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, ইসলাম প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা।
বছর ঘুরে আবারও আমাদের মাঝে রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের বার্তা নিয়ে হাজির হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। ২০২৬ সালের এই ফেব্রুয়ারি মাসেই ইনশাআল্লাহ আমাদের সবার প্রিয় এই মাসটি শুরু হতে যাচ্ছে। আপনারা অনেকেই এখন গুগলে খুঁজছেন রমজান ক্যালেন্ডার কিংবা আজকের সেহরি ও ইফতারের সময় কখন। তাই তো?

আমার প্রিয় ডট কমের আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের রমজানের সময়সূচি, রোজার নিয়ত এবং কিছু জরুরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। আমি চেষ্টা করেছি একদম সহজ ভাষায় বিষয়গুলো তুলে ধরতে, যেন আপনাদের বুঝতে কোনো অসুবিধা না হয়। চলুন, প্রস্তুতি শুরু করি।

২০২৬ সালে রমজান কত তারিখে শুরু হবে?

রমজান ক্যালেন্ডার মানে শাবান মাস শেষ হওয়ার পর পরই রমজান শুরু হয়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে, ২০২৬ সালে পবিত্র মাহে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রোজ: বুধবার। অর্থাৎ, ১৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে আমরা প্রথম তারাবিহ পড়বো এবং সেহরি খাবো ইনশাআল্লাহ। তবে মনে রাখবেন, সবই চাঁদের ওপর নির্ভরশীল। চাঁদ একদিন আগে বা পরে দেখা গেলে তারিখ পরিবর্তন হতে পারে।

সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ (ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)

রোজাদারদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক সময়ে সেহরি খাওয়া এবং ইফতার করা। এক মিনিট এদিক সেদিক হলে রোজা মাকরুহ বা নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। তাই তো এই রমজান ক্যালেন্ডার এর থেকে নিচে আমি ঢাকা জেলার জন্য একটি আনুমানিক সময়সূচি দিচ্ছি।

(বিদ্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চূড়ান্ত ঘোষণা অনুযায়ী সময় ১-২ মিনিট পরিবর্তন হতে পারে, তাই আপনারা স্থানীয় মসজিদের আজানের প্রতিও খেয়াল রাখবেন)

নিচে পুরো ৩০ দিনের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি দেওয়া হলো। সতর্কতা হিসেবে সেহরির শেষ সময়ের ৩-৪ মিনিট আগেই খাওয়া শেষ করবেন এবং ইফতারের সময়ের ১-২ মিনিট পর ইফতার শুরু করা উত্তম।

(সময়সূচি: ঢাকা জেলা)

রমজান তারিখ (২০২৬) বার সেহরির শেষ সময় ইফতারের সময়
১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার ০৫:০৮ মি. ০৬:০০ মি.
১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ০৫:০৭ মি. ০৬:০০ মি.
২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ০৫:০৬ মি. ০৬:০১ মি.
২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার ০৫:০৫ মি. ০৬:০১ মি.
২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার ০৫:০৪ মি. ০৬:০২ মি.
২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার ০৫:০৪ মি. ০৬:০২ মি.
২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ০৫:০৩ মি. ০৬:০৩ মি.
২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার ০৫:০২ মি. ০৬:০৩ মি.
২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ০৫:০১ মি. ০৬:০৪ মি.
১০ ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ০৫:০০ মি. ০৬:০৪ মি.
১১ ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার ০৫:০০ মি. ০৬:০৫ মি.
১২ ০১ মার্চ রবিবার ০৪:৫৯ মি. ০৬:০৫ মি.
১৩ ০২ মার্চ সোমবার ০৪:৫৮ মি. ০৬:০৬ মি.
১৪ ০৩ মার্চ মঙ্গলবার ০৪:৫৭ মি. ০৬:০৬ মি.
১৫ ০৪ মার্চ বুধবার ০৪:৫৬ মি. ০৬:০৭ মি.
১৬ ০৫ মার্চ বৃহস্পতিবার ০৪:৫৫ মি. ০৬:০৭ মি.
১৭ ০৬ মার্চ শুক্রবার ০৪:৫৪ মি. ০৬:০৭ মি.
১৮ ০৭ মার্চ শনিবার ০৪:৫৩ মি. ০৬:০৮ মি.
১৯ ০৮ মার্চ রবিবার ০৪:৫২ মি. ০৬:০৮ মি.
২০ ০৯ মার্চ সোমবার ০৪:৫১ মি. ০৬:০৯ মি.
২১ ১০ মার্চ মঙ্গলবার ০৪:৫০ মি. ০৬:০৯ মি.
২২ ১১ মার্চ বুধবার ০৪:৪৯ মি. ০৬:১০ মি.
২৩ ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার ০৪:৪৮ মি. ০৬:১০ মি.
২৪ ১৩ মার্চ শুক্রবার ০৪:৪৭ মি. ০৬:১০ মি.
২৫ ১৪ মার্চ শনিবার ০৪:৪৬ মি. ০৬:১১ মি.
২৬ ১৫ মার্চ রবিবার ০৪:৪৫ মি. ০৬:১১ মি.
২৭ ১৬ মার্চ সোমবার ০৪:৪৪ মি. ০৬:১২ মি.
২৮ ১৭ মার্চ মঙ্গলবার ০৪:৪৩ মি. ০৬:১২ মি.
২৯ ১৮ মার্চ বুধবার ০৪:৪২ মি. ০৬:১২ মি.
৩০ ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার ০৪:৪১ মি. ০৬:১৩ মি.

(বি:দ্র: সেহরির শেষ সময় অর্থ হলো সুবহে সাদিকের সময়। এর পর আর কিছু খাওয়া যাবে না। আর ফজরের আজান সাধারণত সেহরির শেষ সময়ের ৪-৫ মিনিট পর দেওয়া হয়।)

ঢাকার সময়ের সাথে অন্যান্য জেলার পার্থক্য

উপরের ছকটি মূলত 2026 সালের রমজান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ঢাকা জেলার জন্য। আপনারা যারা ঢাকার বাইরে আছেন, তারা ঢাকার সময়ের সাথে কিছু মিনিট যোগ বা বিয়োগ করে নিবেন। আমার অভিজ্ঞতা থেকে নিচে একটা সহজ হিসাব দিচ্ছি:

মনে রাখবেন:

  • বিয়োগ (-): মানে হলো ঢাকার সময়ের এত মিনিট আগে সেহরি শেষ করতে হবে বা ইফতার করতে হবে।

  • যোগ (+): মানে হলো ঢাকার সময়ের এত মিনিট পরে সেহরি শেষ করতে হবে বা ইফতার করতে হবে।

১. যাদের সময় ঢাকার আগে (সময় বিয়োগ করতে হবে)

(চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের পূর্বাংশ)

জেলা/এলাকা মিনিট বিয়োগ (-) করবেন
সিলেট বিভাগ
সিলেট ৮ মিনিট
মৌলভীবাজার ৭ মিনিট
সুনামগঞ্জ ৬ মিনিট
হবিগঞ্জ ৫ মিনিট
চট্টগ্রাম বিভাগ
খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ৬ মিনিট
কক্সবাজার, চট্টগ্রাম শহর ৫ মিনিট
কুমিল্লা, ফেনী ৪ মিনিট
নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩ মিনিট
চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ৩ মিনিট
ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ
নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ ২ মিনিট
নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ১ মিনিট
নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ১ মিনিট

(উদাহরণ: ঢাকার ইফতার ৬:০০টায় হলে, সিলেটের মানুষ ৮ মিনিট আগে ৫:৫২ মিনিটে ইফতার করবেন।)


২. যাদের সময় ঢাকার পরে (সময় যোগ করতে হবে)

রাজশাহী, খুলনা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগ

জেলা/এলাকা মিনিট যোগ (+) করবেন
রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ
ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ১০ মিনিট
দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৮ মিনিট
রাজশাহী, নওগাঁ ৭ মিনিট
রংপুর, কুড়িগ্রাম ৫ মিনিট
পাবনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ৫ মিনিট
খুলনা বিভাগ
সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ৬ মিনিট
খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ ৫ মিনিট
বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ৪ মিনিট
বরিশাল ও ঢাকা বিভাগ
গোপালগঞ্জ ৪ মিনিট
ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ৩ মিনিট
পিরোজপুর, ঝালকাঠি ২ মিনিট
বরিশাল শহর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ২ মিনিট
গাজীপুর ১ মিনিট

(উদাহরণ: ঢাকার ইফতার ৬:০০টায় হলে, রাজশাহীর মানুষ ৭ মিনিট পর ৬:০৭ মিনিটে ইফতার করবেন।)

(সতর্কতা: এই সময়গুলো আনুমানিক হিসাব। আকাশের অবস্থা এবং স্থানীয় দ্রাঘিমাংশের কারণে ১-২ মিনিটের হেরফের হতে পারে। তাই সেহরিতে সময়ের ৫ মিনিট আগেই খাওয়া শেষ করা এবং ইফতারে স্থানীয় মসজিদের আজান শুনে ইফতার করা সবচেয়ে নিরাপদ।)

রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া (উচ্চারণসহ)

অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, ভাই রোজার নিয়ত কি আরবিতেই করতে হবে? না ভাই, নিয়ত হলো মনের ইচ্ছা। আপনি যদি মনে মনে ভাবেন আগামীকাল আমি রোজা রাখবো, সেটাই যথেষ্ট। তবুও মুখে বলা ভালো।

রোজার নিয়ত (আরবি):

নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।

ইফতারের দোয়া:

আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা আফতারতু।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিজিক দ্বারাই ইফতার করছি।

রমজানে সুস্থ থাকতে আমার কিছু পরামর্শ

সারা দিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারে আমরা অনেকেই ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলি। এতে শরীর খারাপ হয়, তারাবিহ পড়তে কষ্ট হয়। আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হলো সেহরিতে খুব বেশি তেল-চর্বি যুক্ত খাবার খাবেন না। খেজুর আর দই খেলে তৃষ্ণা কম পায়।
ইফতারে প্রচুর পানি ও শরবত পান করুন, তবে খুব বেশি ঠান্ডা পানি নয়।
ভাজাপোড়া কম খেয়ে ফলমূল ও ছোলা-মুড়ি খান। এটা বেশ মজারও আমরাও প্রায় এটাই করি। দেখবেন ভাললাগবে।

সবশেষে আমার কিছু কথা

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে ২০২৬ সালের এই রমজান মাসটি সুস্থভাবে পালন করার তৌফিক দান করুন। আজকের রমজান ক্যালেন্ডার আর্টিকেলটি যদি আপনাদের উপকারে আসে, তবে শেয়ার করে আপনার বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজনকেও সঠিক সময়সূচি জানতে সাহায্য করুন। আপনাদের সবার জন্য দোয়া রইলো, আমার জন্যও দোয়া করবেন।

রমজানুল মোবারক!

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: ২০২৬ সালে প্রথম রোজা কবে?
উত্তর: চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, বুধবার প্রথম রোজা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

প্রশ্ন: সেহরির শেষ সময়ের কতক্ষণ পর ফজরের আজান হয়?
উত্তর: সাধারণত সেহরির শেষ সময়ের ৩-৪ মিনিট পর ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং আজান দেওয়া হয়। সতর্কতা হিসেবে আজানের আগেই খাওয়া বন্ধ করা উচিত।

প্রশ্ন: ভুলে কিছু খেয়ে ফেললে কি রোজা ভেঙে যায়?
উত্তর: না, যদি আপনি আসলেই ভুলে যান যে আপনি রোজা আছেন এবং কিছু খেয়ে ফেলেন, তবে রোজা ভাঙবে না। মনে পড়ার সাথে সাথে খাওয়া বন্ধ করে কুলি করে নিবেন।

×
Scroll to Top