একজন ব্যক্তি মোনাজাত করছেন বিপদ মুক্তির দোয়ার জন্য

বিপদ মুক্তির দোয়া এবং কঠিন সময়ে মানসিক শান্তি ও সফলতার সেরা ৫টি আমল

আসসালামু আলাইকুম আমার প্রিয় পাঠক বৃন্দ। আশা করি মহান আল্লাহর রহমতে আপনি ভালো আছেন। আসলে জীবন মানেই হলো পরীক্ষা। মাঝে মাঝে আমাদের জীবনে এমন কিছু সময় আসে যখন চারপাশটা অন্ধকার মনে হয়। ব্যবসায় লস, পারিবারিক অশান্তি, কিংবা হঠাৎ করে আসা কোনো রোগবালায় সব মিলিয়ে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ি। তবে এমন বিপদ আসলে কিরবেন? আছে! এমন কিছু বিপদ মুক্তির দোয়া যা আমাদের কঠিন সময়ে মানসিক শান্তি দিতে পারে।

কেন আমরা বিপদে পড়ি?

আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, মানুষ যখন সব দড়জা বন্ধ দেখে, তখন কেবল আল্লাহর দড়জাই খোলা থাকে। আপনি হয়তো এখন গুগলে সার্চ করেছেন বিপদ মুক্তির দোয়া লিখে, কারণ আপনি একটি সমাধানের খোঁজ করছেন।

বিশ্বাস করুন, আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের হতাশ হওয়া মানায় না। আজ আমি আপনাদের সাথে এমন কিছু বিপদ  থেকে মুক্তি পাওয়ার দোয়া ও আমল শেয়ার করবো, যা ইনশাআল্লাহ আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিবে। ঠিক আছে তাহলে শুরু করি একদম সহজে জেনে নেয়া যাক সেই ৫টি ইসলামিক বিপদমুক্তির আমলগুলো।

বিপদ মুক্তির সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া (দোয়া ইউনুস)

আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন, আবার অনেকেই হয়তো আমলটা গুরুত্ব দিয়ে করেন না। হযরত ইউনুস (আ.) যখন মাছের পেটে ঘোর অন্ধকারের মধ্যে ছিলেন, তখন তিনি একটি দোয়া পড়েছিলেন। আল্লাহ তায়ালা সেই দোয়ার উসিলায় তাকে অসম্ভব বিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলেন।

এই দোয়া:

"লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ যোয়ালিমিন।"
(অর্থ: তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তুমি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।)

রাসূল (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম যদি কোনো বিপদে পড়ে এই দোয়া পাঠ করে, আল্লাহ অবশ্যই তার দোয়া কবুল করেন। তাই যখনই খুব বেশি ডিপ্রেশনে ভুগবেন বা কোনো কূল-কিনারা পাবেন না, তখন এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করবেন। হাঁটতে-চলতে, কাজের ফাঁকে এটি মনে মনে পড়তে থাকুন। অলোকিক ভাবে  কাজ হবে ইনশাআল্লাহ।

ইস্তেগফার: রিজিক ও সমাধান বাড়ানোর জন্য

অনেকেই  আমাকে প্রশ্ন করেন, ভাইয়া, অনেক চেষ্টা করছি কিন্তু কোনো কাজেই বরকত পাচ্ছি না। তাদের জন্য আমার একটাই সাজেশন ভাই বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়ুন।

আমরা মানুষ, আমাদের দ্বারা ভুল হবেই। আর এই গুনাহের কারণেই মাঝে মাঝে আমাদের রিজিকে সংকীর্ণতা চলে আসে।
আপনি যদি প্রতিদিন নিয়ম করে
আস্তাগফিরুল্লাহ পড়েন, তবে আল্লাহ আপনাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।

  • আমার টিপস: প্রতিদিন ফজর এবং এশার নামাজের পরে অন্তত ১০০ বার ইস্তেগফার পড়ার চেষ্টা করুন।

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষার দোয়া

উহুদের যুদ্ধের পর সাহাবীদের যখন শত্রুরা আবার আক্রমণের ভয় দেখাচ্ছিল, তখন তারা ভয় না পেয়ে একটি বাক্য উচ্চারণ করেছিলেন। আর তাতেই আল্লাহ তাদের ওপর খুশি হয়ে যান এবং বিপদ সরিয়ে দেন।

দোয়াটি হলো:

হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল।
অর্থ: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

যখন মনে হবে আপনার পাশে কেউ নেই, কেউ আপনাকে সাহায্য করছে না, তখন মন থেকে এই দোয়াটি পড়ুন। এর মানে হলো আপনি আপনার সব ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলেন। আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার আর কীসের ভয়?

সদকা বা দান করা

এটা কোনো দোয়া নয়, কিন্তু দোয়ার চেয়েও দ্রুত কাজ করে। হাদীসে আছে, সদকা বালা-মুসিবত দূর করে।
বিপদে পড়লে সাধ্যমতো কিছু টাকা গরিবকে দান করে দিন।
সেটা ১০ টাকাও হতে পারে। দান করার সময় মনে মনে নিয়ত করবেন, হে আল্লাহ, এই দানের উসিলায় আমার এই বিপদটি দূর করে দাও। দেখবেন, খুব দ্রুত আপনি ফল পাচ্ছেন। এটা আমার নিজের জীবনে বহুবার পরীক্ষিত।

তাহাজ্জুদে চোখের পানি

সবশেষ যে বিষয়টি বলবো, তা হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। দেখুন, দিনের বেলা আমরা মানুষের কাছে ধর্না দিই, কিন্তু রাত ৩টার সময় যখন সবাই ঘুমায়, তখন আপনি যদি উঠে ২ রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে একটু কাঁদেন আল্লাহ কি সেই হাত ফিরিয়ে দিতে পারেন?

বিপদ মুক্তির জন্য তাহাজ্জুদে চোখের পানি ফেলার মতো আর কিছু নেই। সমস্যা যত বড়ই হোক, আল্লাহর ক্ষমতার চেয়ে বড় নয়। তাই হতাশ না হয়ে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে যান।

আল্লাহর কাছে তাহাজ্জুদে মনখুলে কাঁদুন আল্লাহকে বলুন আল্লাহ্ আমার এই সমস্যা আর সেই সমস্যা দেখবেন নিশ্চই আল্লাহ্ আপনার কথা শুনেছেন।

আমার প্রিয় শেষ কথা

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, বিপদ স্থায়ী নয়। এই রাত পোহালেই সকাল হবে। আমি যে ৫টি আমলের কথা বললাম দোয়া এ ইউনুস, ইস্তেগফার, হাসবুনাল্লাহু, সদকা এবং তাহাজ্জুদ এগুলো আজ থেকেই শুরু করুন।

বিপদ মুক্তির জন্য এই দোয়া ও আমল করুন। দেখবেন কঠিন সময়ে মানসিক শান্তি পাচ্ছেন। আমার এই আরটিকেলটি পড়ে যদি আপনাদের সামান্যতম উপকার হয়, তবেই আমার লেখা সার্থক।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সব ধরণের বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

FAQ:

প্রশ্ন: বিপদ মুক্তির জন্য সবচেয়ে ছোট দোয়া কোনটি?
উত্তর: বিপদ মুক্তির সবচেয়ে ছোট এবং কার্যকরী দোয়া হলো “লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ যোয়ালিমিন”।

প্রশ্ন: কোন সূরা পড়লে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়?
উত্তর: সূরা আদ-দোহা এবং সূরা ইনশিরাহ অর্থসহ পড়লে মানসিক শান্তি পাওয়া যায় এবং হতাশা দূর হয়।

প্রশ্ন: ঋণ থেকে মুক্তির দোয়া কোনটি?
উত্তর: ঋণ মুক্তির জন্য “আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক” দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করা উচিত।

প্রশ্ন: দোয়া কবুল হওয়ার শ্রেষ্ঠ সময় কখন?
উত্তর: শেষ রাতে (তাহাজ্জুদের সময়), আজান ও একামতের মধ্যবর্তী সময় এবং সিজদারত অবস্থায় দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

×
Scroll to Top