আপনি কি দুম্বা পালন করতে চান? কিন্তু দুম্বা লালন পালন সম্পর্কিত সঠিক ধারণা না থাকায় তা পারছেন না? তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য সহজ সমাধান হতে পারে। এই আর্টিকেলটিতে আমি দুম্বা সম্পর্কিত অনেক তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি এই আর্টিকেলটি পড়ে দুম্বা সম্পর্কে তো বিভিন্ন তথ্য আপনি পেয়ে যাবেন।
আর্টিকেলটি পড়ে আপনি জানতে চলেছেন
- বর্তমান বাজারে দুম্বার চাহিদা কেমন?
- উন্নত জাতের দুম্বা চেনার উপায়?
- দুম্বা কি বাংলাদেশের আবহাওয়া মানিয়ে নিতে পারবে?
- দুম্বা কি খায়?
- দুম্বার রোগ বালাই কেমন?
এরকম নানান প্রশ্নের উত্তর নেই আজকের আর্টিকেলটা শুরু করতে যাচ্ছি। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ার অনুরোধ রইলো। আশা করি আপনার মনে জমে থাকা সকল প্রশ্নের উত্তর আপনি পেয়ে যাবেন।
বর্তমান বাজারে দুম্বা চাহিদা
ধর্মীয় অনুভূতির দিক দিয়ে সকল মুসলিমদের জীবনে একবার হলেও দুম্বা কোরবানি দেওয়ার ইচ্ছা মনে জাগে। কিন্তু বাংলাদেশে চাহিদা অনুযায়ী দুম্বা না থাকায় এবং দাম তুলনামূলক অনেক বেশি হওয়ায় দুম্বা কোরবানি দিতে পারেন না।
তবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছোট-বড় আকারে দুম্বার খামার গড়ে উঠেছে। এবং বাজারে দিন দিন এর চাহিদা বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে দুম্বাও ভেড়া, ছাগলের মত সকলের নাগাল্যান্ডের মধ্যে চলে আসবে।
দুম্বার ব্যাপক চাহিদা থাকার জন্য ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের খামারিরা দুম্বা পালন করে প্রচুর পরিমাণে লাভবান হচ্ছেন।
বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী আকার আকৃতির ভিত্তিতে দুম্বা ৮০ হাজার থেকে ২.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। তবে ওজন ও বয়স অনুযায়ী দাম কম বেশি হতে পারে।
খামার এর জন্য উন্নত জাতের দুম্বা চেনার উপায়
পূর্বে দুম্বার প্রচলন বাংলাদেশে না থাকায় আসল বা উন্নত জাতের দুম্বা চিনতে আমরা ভুল করি। তাই অনেকেই গাড়ল বা ভেড়া কে দুম্বা ভেবে ভুল করেন।
দুম্বা পালন করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে প্রথমে উন্নত জাতের দুম্বা চিনতে হবে। তা না হলে আপনি দুম্বা পালন করে লাভবান হতে পারবেন না।
উন্নত জাতের দুম্বা চেনার তিনটি প্রধান ও সহজ উপায় আছে। যেমন _
- ভেড়া ও ছাগলের মতো দুম্বার লেজ থাকে না।
- দুম্বার পেছনের অংশে মাংস অনেকটা ঝুলে থাকে।
- দুম্বা ভেড়া ও গাড়োলের থেকে তুলনামূলক বড় হয়এবং ওজনও ভেড়া ও গাড়লের চেয়ে অনেক বেশি হয়।
সাধারণত এই ৩টা বিষয় জানা থাকলে আপনি উন্নত জাতের দুম্বা চিনতে পারবেন।
বাংলাদেশের জলবায়ুতে দুম্বা পালন করা যাবে কিনা?
দুম্বা প্রধানত মরু অঞ্চলের প্রাণী। আমরা জানি মরু অঞ্চলে অনেক বেশি গরম খরা হয়ে থাকে। তাই অনেকেই ভাবেন বাংলাদেশ তো নাতিশীতোষ্ণ দেশ এখানে দুম্বা পালন করা কি সম্ভব?
হ্যাঁ। দুম্বা মরু অঞ্চলের প্রাণী হলেও এটি নাতিশীতোষ্ণ জায়গাতেও নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।
মরু অঞ্চলে অনেক গরম থাকে সাথে সাথে খরা ও হয়। তাই সকল অঞ্চলে গবাদি পশুর খাদ্যের অনেক সংকট দেখা দিয়ে থাকে।
তবে আমাদের বাংলাদেশ সবুজ শ্যামলী ভরা। তাই আমাদের দেশে গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দেয় না। তাই আমার মতে মরু অঞ্চলের তুলনায় নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দুম্বা পালন করতে তেমন কোন অসুবিধা হয়না।
দুম্বা লালন পালন পদ্ধতি
দুম্বা পাল লালন পালন করা ছাগল ভেড়া ও গারোলর মতই। তবে স্যাতসেতে বা ভেজা জায়গায় থাকলে এই ধরনের প্রাণী গুলো বিভিন্ন ধরনের রোগ ও কৃমির মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারে।
তাই দুম্বার থাকার জায়গা ছাগল ও ভেড়ার মতই মাটি থেকে কিছুটা উপরে মাচার উপর তৈরি করতে হবে। এর ফলে দুম্বার থাকার জায়গাও পরিষ্কার থাকবে। মলমূত্র নিচে পড়ে যাবে এবং এরা রোগবালাই থেকে দূরে থাকবে।
দুম্বার লোম সাধারণত ভেড়া ও গাড়লের মতোই বড় হয়ে থাকে। যার ফলে এদের চলাফেরা করতে বা গরমের সময় অনেক অসুবিধা হয়। তাই এদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য লোম কেটে দিতে হয়।
দুম্বার খাদ্য ও প্রিয় খাবার বা দুম্বা কি খায়?
অনেকেই ভেবে থাকেন দুম্বা পালনের জন্য মনে হয় বিশেষ কোনো খাবারের প্রয়োজন হয়ে থাকে। আপনারা জেনে খুশি হবেন যে দুম্বা পালনের জন্য বিশ্বাস কর খাবারের প্রয়োজন হয় না।
সাধারণত আমরা গরু ছাগল ভেড়া গাড়ল ইত্যাদি পশুদের যে সকল খাদ্য দিয়ে থাকি সেগুলোই দুম্বার খাদ্য। যেমনঃ খড়, সবুজ ঘাস, গাছের পাতা, সাইলেজ, দানাদার খাদ্য, ভুসি ইত্যাদি।
দুম্বার রোগ ব্যাধি বিষয়
দুম্বার ভালোভাবে পরিচর্যা করলে এবং সঠিক পরিবেশে লালন পালন করলে এর তেমন রোগব্যাধি হয় না।
তবে যেন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত না হয় এইজন্য গরু ছাগল ভেড়া ইত্যাদির মতই এদের কেউ ৬ মাস পর পর প্রিপিয়ার করে দিতে হয়। এবং তিন মাস বা ৯০ দিন পরপর কৃমির ডোজ দেয়া হয়।
এর ফলে দুম্বার রোগব্যাধি দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। এবং মেয়ে দুম্বা দ্রুত হিটে চলে আসে।
দুম্বা পালন এর প্রজনন ও বাচ্চা দানের সময়সীমা
ছাগল ভেড়ার মতোই দুম্বা সাধারনত প্রথমবার এক বছর পর হেঁটে আসে। এবং গর্ভধারণের ৫ মাস ১৫ দিন থেকে ৬ মাসের মধ্যেই বাচ্চা প্রসব করে। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময় কম বেশি হতে পারে।
দুম্বা বাচ্চা প্রসবের ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় হিটে আসে ।দুম্বা হিটে আসলে ব্রিড করানোর সময় দুম্বার পেছনের ঝুলে থাকা মাংস একটু উঁচু করে ধরলে বাচ্চা কনসেপ্ট হার অনেক বেড়ে যায়।
তবে কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হতে পারে। দুম্বা সাধারনত ১৪ মাসের মধ্যে দুইবার বাচ্চা প্রসব করে থাকে। ভালো জাতের দুম্বা হলে সাধারণত এক থেকে তিনটি বাচ্চা দিতে পারে।
আমার প্রিয় কথা
উপরে দুম্বা নিয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। আপনি যদি নতুন উদ্যোক্তা হয়ে থাকেন। অথবা দুম্বা নিয়ে নতুন ভাবে কাজ করতে চান।
তাহলে আমার এই আর্টিকেলটি পরে আশা করি আপনি অনেক উপকৃত হবেন। দুম্বার বাংলাদেশের খামারিদের কাছে অনেক লাভজনক ব্যবসা হয়ে উঠেছে। দুম্বার খামার তৈরি করে বা ছোট্ট পরিসরে দুম্বা পালন করে আপনিও লাভবান হতে পারেন।
কৃষি সম্পর্কিত নতুন নতুন তথ্য পেতে amarprio.com এর সাথে থাকুন। পূর্বে যদি আপনার দুম্বা পালন নিয়ে কোন অভিজ্ঞতা থেকে থাকে তাহলে কমেন্টে আপনার মূল্যবান বক্তব্য জানিয়ে খামারি ভাইদের আপনার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তাদের উপকৃত করুন।
FAQ
প্রশ্ন : একটি দুম্বার সর্বোচ্চ ওজন কত হতে পারে?
উত্তর :একটি প্রাপ্তবয়স্ক দুম্বার সর্বোচ্চ ওজন ১২০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
প্রশ্ন : একটা পুরুষ দুম্বার সাথে কয়টি মেয়ে দুম্বা রাখলে ভালোভাবে প্রজনন করানো যাবে?
উত্তর : ১০ থেকে ১২টি মেয়ে দুম্বার সাথে একটি পুরুষ দুম্বা রাখলে প্রজনন করে ভালো জাতের দুম্বা উৎপাদন করা সম্ভব।


