প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা! ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা এমন এক যুগে আছি, যেখানে শুধু সার্টিফিকেটের জন্য পড়লে চলবে না। এখন পড়াশোনার পাশাপাশি স্কিল বা দক্ষতা অর্জন করাটা ফরয হয়ে গেছে। বিশ্বাস করুন, আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটি দিয়েই আপনি চাইলে মাসে ৫-১০ হাজার টাকা অনায়াসেই ইনকাম করতে পারেন, তাও আবার পড়াশোনার বিন্দুমাত্র ক্ষতি না করে। সো আজ আমি আপনাদের সাথে এমন ৫টি ছাত্রজীবনে আয় করার উপায় শেয়ার করব, যেগুলো আমি নিজে দেখেছি এবং আমার অনেক জুনিয়র ভাই-ব্রাদার এগুলো করে এখন স্বাবলম্বী। চলুন, আর দেরি না করে মূল কথায় যাই।
কনটেন্ট রাইটিং বা লেখালেখি করে আয়
আপনার যদি বাংলা বা ইংরেজিতে গুছিয়ে লেখার অভ্যাস থাকে, তবে এটি আপনার জন্য ভালো টপিক হবে।
এখন হাজার হাজার ওয়েবসাইট আছে (যেমন আমাদের এই সাইটটি), যাদের নিয়মিত কনটেন্ট রাইটার প্রয়োজন।
এখানে কোনো ধরাবাঁধা সময় নেই। আপনি রাতে পড়ার ফাঁকে বা ছুটির দিনে ২-৩ ঘণ্টা সময় দিলেই চলে।
প্রথমে নিজের একটা পোর্টফোলিও বা স্যাম্পল রেডি করুন। তারপর বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে বা LinkedIn এ জব খুঁজতে পারেন।
শুরুতে হয়তো টাকা কম পাবেন, কিন্তু হাত পেকে গেলে মাসে ১০-১৫ হাজার টাকা আয় করা কোনো ব্যাপার না।
ডিজিটাল বা অনলাইন টিউশনি
টিউশনি তো সবাই করায়, এতে আর নতুন কি? আমি সেই পুরোনো স্টাইলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিউশনির কথা বলছি না।
২০২৬ সালে এসে টিউশনি এখন অনলাইনে চলে এসেছে।
আপনার যদি গণিত, ইংরেজি বা বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে ভালো দখল থাকে, তবে আপনি জুম বা গুগল মিটে ব্যাচ পড়াতে পারেন।
জ্যাম ঠেলে স্টুডেন্টের বাসায় যেতে হবে না। নিজের হোস্টেলে বা রুমে বসেই পড়াতে পারবেন। এতে অনেক সুবিধা পাবেন। সময় আর শক্তি দুটোই বাঁচবে।
রিসেলিং ব্যবসা বিনা পুঁজিতে ব্যবসা
আপনার কাছে ব্যবসার পুঁজি নেই? কোনো সমস্যা নেই। রিসেলিং হলো এমন এক ব্যবসা যেখানে আপনার পকেটের এক টাকাও লাগবে না।
বর্তমানে অনেক পাইকারি সেলার বা অ্যাপ আছে যারা আপনাকে তাদের পণ্যের ছবি দেবে।
আপনি সেই ছবি আপনার ফেসবুক ওয়ালে বা পেজে শেয়ার করবেন।
কেউ অর্ডার করলে আপনি শুধু সেলারকে অর্ডারটি ফরোয়ার্ড করে দেবেন। পণ্য প্যাকিং বা ডেলিভারি সব সেলার রা-ই করবে।
মাঝখান থেকে আপনি আপনার লাভের অংশ কমিশন পেয়ে যাবেন। একে বলে বুদ্ধিমানদের ব্যবসা!
একটু ঘাটাঘাটি করেন অনেক টিউটোরিয়াল পাবেন বা কোর্স পেয়ে যাবেন যেখান থেকে আপনি ফুল প্রসেস শিখবেন তারপর শুরু করবেন।
স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও ফ্রিল্যান্সিং | গ্রাফিক্স/ওয়েব ডিজাইন
এটা একটু সময়সাপেক্ষ, কিন্তু এর ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল। আপনি যদি পড়াশোনার শুরুর দিকেই গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং বা ওয়েব ডিজাইনের কাজ শিখে নেন, তবে অনার্স শেষ করার আগেই আপনি লাখপতি হতে পারেন।
আমার এলাকার এক ছোট ভাই, যে কিনা অনার্সে পড়ে, সে শুধু ক্যানভা (Canva) দিয়ে ডিজাইন করে মাসে ২০ হাজার টাকা ইনকাম করছে।
তাই ইউটিউব দেখে আজই যেকোনো একটা স্কিল শেখা শুরু করুন। শুরুতে একটু কঠিন মনে হবে, কিন্তু লেগে থাকলে ফল পাবেনই।
আমার কথা বাদই দিলাম তার কথাই একবার ভাবুন, আপনি কেন পারবন না? ভাই দয়া করে শুরু করেন হবেই হবে ভালো কিছু।
কন্টেন্ট ক্রিয়েশন
লজ্জা ভেঙে যদি ক্যামেরার সামনে আসতে পারেন, তবে এটি আপনার জন্য সোনার খনি। আপনি যা ভালো পারেন হতে পারে সেটা গান, আবৃত্তি, টেক রিভিউ বা ট্রাভেল ব্লগিং সেটা নিয়েই ভিডিও মেক করা।
২০২৬ সালে ভিডিও কন্টেন্টের চাহিদা আকাশছোঁয়া। ফেসবুকে রিলস বা ইউটিউব শর্টস বানিয়েও এখন ভালো ইনকাম করা সম্ভব। তবে হ্যাঁ, পড়াশোনা বাদ দিয়ে সারাদিন ভিডিও বানালে কিন্তু চলবে না!
আমার ক্লাসমেট হঠাৎ আমারে বললো সে মনিটাইজেশন পাইছে, আমি বল্লাম তাতে কি আর তেমন ইনাকাম হয়? পরে আমারে স্ক্রীনশট দিলো আমার তো মাথায় খারাপ ৯৫,০০০ টাকা উঠাইলো এক মাসে।
কিছু সতর্কবার্তা অবশ্যই পড়বেন
টাকার নেশা কিন্তু খুব খারাপ জিনিস। ছাত্রজীবনে আয় করতে গিয়ে অনেকেই পড়াশোনা লাটে তুলে দেয়। এটা ভুলেও করা যাবে না। মনে রাখবেন, আপনার প্রধান কাজ হলো পড়াশোনা। ইনকামটা জাস্ট হাতখরচ চালানোর জন্য।
-
লোভনীয় অফার বা “ক্লিক করলেই টাকা” এমন যে কোনো ভুয়া সাইট থেকে দূরে থাকবেন।
-
কাজের জন্য যেন ঘুমের বা ক্লাসের ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
শেষ কথা
প্রিয় স্টুডেন্ট বন্ধুরা, জীবনটা যুদ্ধের ময়দান। এখানে বাবার পরিচয়ে কতদিন আর চলবেন? আজ থেকেই ছোটখাটো কিছু শুরু করুন।
কে কী বলল, তাতে কান দেবেন না। নিজের পকেটে টাকা থাকলে দেখবেন দুনিয়াটাই অন্যরকম লাগে।
লেখাটি পড়ে যদি আপনার মনে একটুও সাহস জাগে, তবেই আমার সার্থকতা।
আপনার মাথায় যদি অন্য কোনো আইডিয়া থাকে, তবে নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান। আমরাও শিখতে চাই আপনার কাছ থেকে। ভালো থাকবেন, আর সময়ের সঠিক ব্যবহার করবেন।
FAQ:
প্রশ্ন: ছাত্রজীবনে আয় করার জন্য কি ল্যাপটপ থাকা বাধ্যতামূলক?
উত্তর: না, একদমই না। কন্টেন্ট রাইটিং, রিসেলিং বা ভিডিও মেকিংয়ের কাজগুলো আপনি স্মার্টফোন দিয়েই শুরু করতে পারেন। পরে ইনকামের টাকা দিয়ে ল্যাপটপ কিনে নেবেন।
প্রশ্ন: টিউশনি ছাড়া মাসে কত টাকা আয় করা সম্ভব?
উত্তর: এটা আপনার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। তবে স্কিল থাকলে এবং নিয়মিত সময় দিলে মাসে ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব, যা একজন ছাত্রের জন্য যথেষ্ট।
প্রশ্ন: পড়াশোনার ক্ষতি না করে দিনে কতক্ষণ কাজ করা উচিত?
উত্তর: ছাত্র অবস্থায় দিনে ২ থেকে ৩ ঘণ্টার বেশি কাজের পেছনে দেওয়া উচিত নয়। পরীক্ষার সময় কাজ কমিয়ে পড়াশোনায় ফোকাস করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।


