আসসালামু আলাইকুম আমার প্রিয় কৃষক ভাই ও বন্ধুরা! কেমন আছেন সবাই?
ভাই, সরকার এখন সব কিছু ডিজিটাল করে ফেলছে। তাই পকেটে যদি এই কৃষি স্মার্ট কার্ড না থাকে, তবে আপনি অনেক বড় লস করছেন বস।
তবে টেনশন নাই বস! আজকের এই পোস্টে আমি আপনাদের একদম পানির মতো সহজ করে বুঝিয়ে দেব কৃষি কার্ড কি কেন এবং কিভাবে কি করবেন, অনলাইনে চেক করবেন এবং এর আসল সুবিধাগুলো কী কী সব এখানেই জানবেন।
চলেন, আর দেরি না করে আসল কথায় ঢুকে পড়ি! 👇
কৃষি কার্ড আসলে কী?
সোজা কথায়, এটা হলো আপনার কৃষক পরিচয়পত্র । যেমন আগে মুখে মুখে সব হতো, এখন আর সেই দিন নাই রে। সরকার এখন ডাটাবেজ তৈরি করেছে। সো এই কার্ড যার আছে, সরকার তাকেই প্রকৃত কৃষক হিসেবে চেনে।
তবে বর্তমানে এটাকে আপডেট করে কৃষি স্মার্ট কার্ড বলা হচ্ছে, যেখানে আপনার জমির সব তথ্য সেই স্মার্ট চিপের মধ্যে বা সেই ডিজিটাল কৃষি স্মার্ট কার্ড এর মধ্যেই থাকে।
আশা করি এটা ক্লিয়ার বুঝতে পেরেছেন। তবে এখন একটা প্রশ্ন সেটা হলোঃ কৃষি কার্ড এর সুবিধা কি? মানে এটা আমি কি করবো তাই না? নিচে পড়ুন…
কৃষি কার্ড থাকলে কী কী সুবিধা পাবেন? (Benefits)
ভাইজান, এই কার্ডটা পকেটে থাকলে আপনি নিজেকে এক ধরনের ভিআইপি (VIP) ভাবতে পারেন! কারণ এই কার্ড দেখালে আপনি পাবেন ✅ সরকারী ভর্তুকি মূল্যে সার ও বীজ। বুঝেনই তো ডিলাররা এই কার্ড ছাড়া এখন আর সার দিতে চায় না।
-
✅ অর্থ সহায়তা পাবেনঃ মানে সরকার কিন্তু মাঝেমধ্যে যে ১০০০/২০০০ টাকা করে প্রণোদনা দেয়, সেটা কিন্তু এই কার্ডধারীরাই আগে পায়।
-
✅ কৃষি ঋণ বা (Loan) সুবিধা : ধরুন ব্যাংক থেকে মাত্র ৪% সুদে কৃষি লোন নিতে গেলেন আর তখন কিন্তু এই কৃষি কার্ডই লাগবে।
-
✅ মেশিনারি সুবিধা পাবেন: যেমনঃ কম দামে হারভেস্টার বা ট্রাক্টর কিনতে গেলে কিন্তু সবার আগে আপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়াও…
-
✅ সামাজিক সম্মান থাকবে: মানে আপনি যে একজন নিবন্ধিত কৃষক, এই কার্ডটা থাকলে আপনি আলাদাই একটা সম্মান পেতে পারেন। কারণ আপনার সেই কার্ড আছে তাই।
কিন্তু কিভাবে সেই আবেদন করবো বা এমন কোন পদ্ধতিতে আবেদন করা যায়? ভাই চিন্তা নাই নিচে সেটা লিখে দিয়েছি একটু ভালো করে পড়ুন পেয়ে যাবেন।
কৃষি কার্ড নিবন্ধন করার নিয়ম ও কিভাবে করা যায়?
অনেকেই আমাকে ইনবক্সে জিজ্ঞেস করেন ভাই অনলাইনে কি কৃষি কার্ড আবেদন করা যায়?
ভাইজান… শুনুন কৃষি কার্ড করার জন্য বর্তমানে ২টি পদ্ধতি আছে, তবে অফলাইন পদ্ধতিই এখনো বেশেই চলে। এবং অনলাইনেও হয় সেটা অফলাইনে আবেদন করার নিয়ম এর পরে জানবো।
সরাসরি আবেদন বা নিবন্ধন করার নিয়ম
এটাই সবচেয়ে সহজ এবং নিশ্চিত ও নিরাপদ উপায়। দেখুন নিজের এলাকার কৃষি অফিসের মাধ্যমেই এটা করতে হয়। কি কি লাগবে দেখুন..
১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কার্ড এর ফটোকপি।
২. ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ এখনকার নতুন তোলা ছবি।
৩. জমির খতিয়ান বা দলিল, কারণ এটা চাষাবাদের প্রমাণ হিসেবে লাগবে, যে এটা আপনার জমি তাই।
৪. সচল একটি মোবাইল নম্বর। মানে আপনার ব্যাবহার করা মোবাইল নাম্বার।
এগুলো নিয়ে এবার কোথায় যাবেন আর কিভাবে কি করবেন
প্রথমে সরাসরি আপনার ইউনিয়ন বা উপজেলার কৃষি অফিসে চলে যান। সেখানে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা যাকে আমরা ব্লক সুপারভাইজার বলি উনার সাথে দেখা করুন।
তাকে বলবেন, ভাই, আমি কৃষি কার্ড করতে চাই। তখন উনি আপনাকে একটা ফরম দেবেন। আর সেই ফরমটি সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করে কাগজপত্রসহ জমা দেন।
ব্যাস! এবার চলে আসুন। কয়েক দিনে যাচাই-বাছাই শেষে কার্ড তৈরি হলে ওরাই আপনাকে ফোন দিয়ে জানাবে। যে আপনার কার্ড ওকে….
কৃষি কার্ড অনলাইন করার নিয়ম
সত্যি বলতে এখনো সারা বাংলাদেশে কিন্তু সবার জন্য উন্মুক্ত কোনো ওয়েবসাইট নেই যেখানে আপনি নিজে নিজে ঘরে বসে আবেদন করবেন।
তবে আমি যতটুকু জানি যে সরকার এখন স্মার্ট কৃষি প্রোফাইল তৈরি করছে। যেটা কিছু কিছু এলাকায় ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে কৃষকের তথ্য অনলাইনে এন্ট্রি দেওয়া হয়।
সো আপনার কাজ হলো কৃষি অফিসে গিয়ে আপনার তথ্যগুলো ডাটাবেজে এন্ট্রি দেওয়া আছে কি না, সেটা চেক করতে হবে।
যদি অনলাইনে আপনার দেওয়া নামটি থাকে, তবে আপনি ভবিষ্যতে অ্যাপের মাধ্যমেই সব সেবা পাবেন আশা করি। তবে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন
কারণ ফেসবুকে বা গুগলে কৃষি কার্ড অনলাইন আবেদন লিখে সার্চ দিয়ে কোনো ভুয়া লিংকে ক্লিক করে প্রতারিত হবেন না। আপনি যা করবেন, দয়করে সরাসরি কৃষি অফিসে গিয়ে করবেন।
কৃষি কার্ড ডাউনলোড করা যায় কি?
মুটামুটি না, কারণ বর্তমানে এনআইডি কার্ডের মতো হুট করে ইন্টারনেট থেকে কৃষি কার্ড ডাউনলোড করার কোনো সিস্টেম এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। তাই আপনাকে অফিস থেকেই ফিজিক্যাল কার্ড সংগ্রহ করতে হবে বস।
তবে বস, কিছু নির্দিষ্ট প্রজেক্টের আওতায় কৃষকরা তাদের প্রোফাইল অনলাইনে দেখতে পারেন। তাও সঠিক জানা যায়নি এখনো যে সেখান থেকে ডাউনলোড করা যাবে কিনা।
কৃষি স্মার্ট কার্ড বিষয়ে
বস সরকার এখন এনালগ কার্ড বাদ দিয়ে স্মার্ট কৃষি কার্ড দিচ্ছে। এটা দেখতে একদম আমাদের ডিজিটাল এনআইডি কার্ডের মতোই। এতে একটা চিপ থাকে। যেটা কার্ডে ভিতরে থাকে সেটাই আসল জিনিস।
ভবিষ্যতে আপনি সারের দোকানে গিয়ে এই কার্ড পাঞ্চ করবেন, আর অটোমেটিক ভর্তুকির টাকা আপনার একাউন্টে যোগ হয়ে যাবে। সিস্টেমটা জোস না? এবার আসুন কিছু সাধরণ কিন্তু খবই উপকারি প্রশ্নত্তর দেখি…….
কিছু জরুরি প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: কৃষি কার্ড করতে কি টাকা লাগে?
উত্তর: একদম না! এটা সরকারি সেবা, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কেউ টাকা চাইলে সোজা না করে দেবেন।
প্রশ্ন: আমার নিজের জমি নাই, বর্গা চাষ করি। আমি কি কার্ড পাব?
উত্তর: অবশ্যই! প্রকৃত চাষী হলে আপনিও কার্ড পাবেন। সেক্ষেত্রে জমির মালিকের প্রত্যয়ন বা বর্গা চাষের প্রমাণ দেখাতে হতে পারে।
প্রশ্ন: কার্ড হারিয়ে গেলে কী করব?
উত্তর: দ্রুত কৃষি অফিসে যোগাযোগ করবেন এবং সম্ভব হলে থানায় জিডি করে সেটার কপি জমা দিবেন।
আমার প্রিয় কিছু কথা
ভাই, সময় যাচ্ছে, দিন বদলাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশে আপনি এখনো এনালগ থেকে গেলে পিছিয়ে পড়বেন। আপনি যদি সত্যিই কৃষিকাজের সাথে যুক্ত থাকেন, তবে এখনকার সময়ে কৃষি কার্ড থাকা আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে।
তাই আপনি যদি একজন প্রকৃত কৃষক হন তাহলে আজই আপনার নিকটস্থ কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন এবং কার্ডটি করিয়ে নিন। মনে রাখবেন, এই কার্ড শুধু কাগজ নয় এটা আপনার অধিকার আদায়ের চাবিকাঠি।
তবে এখনো অনেকেই এই বিষয়ে পুরোপুরি জানেন না তাই আমি এই বিষয়ে একটি পুরো বিস্তারিত নিয়ম দেখানোর চেস্টা করেছি
নোট: কৃষি কার্ড সংক্রান্ত নিয়ম ও সুবিধা সময় ও এলাকার ভিত্তিতে পরিবর্তিতও হতে পারে। তাই সর্বশেষ তথ্যের জন্য নিকটস্থ কৃষি অফিসে যোগাযোগ করা আরো ভালো হবে।
যদি আপনাদের আমার এই পোস্টটি ভালো লাগে, কাজে আসে, তাহলে আপনার অন্য কৃষক বন্ধু বা ভাইদের সাথে শেয়ার করে দিন, যাতে তারাও উপকার পায়।
এর বাইরেও কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান, আমি উত্তর দেওয়ার জন্য যথেষ্ঠ চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ!
সুস্থ থাকুন,ভালো থাকুন, ফলন ভালো হোক! ভালো একজন কৃষক হউন.. আমীন……❤️


