আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক বন্ধুরা! আজকে আমরা কথা বলবো, তরুণ প্রজন্মের ভীষণ পছন্দের, আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয়, আধুনিক ইসলামি চিন্তাবিদ মিজানুর রহমান আজহারী। যাকে চেনে না এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছে।একজন বক্তা কিভাবে লাখো-কোটি তরুণের আইকন হতে পারেন? তার কথা বলার স্টাইল, ইংরেজি ও বাংলা মিশ্রিত আধুনিক বাচনভঙ্গি এবং বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও মানুষ জানতে চান আজহারী হুজুর এখন কোথায় আছেন? বা তার পড়াশোনাই বা কতটুকু?। আজ আমি আপনাদের সেই সব প্রশ্নের উত্তর দেব ইনশাল্লাহ্।
মিজানুর রহমান আজহারী (শুরুর জীবন)
মিজানুর রহমান আজহারী হুজুর জন্মগ্রহণ করেন ১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি।
তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লার মুরাদনগরে হলেও তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা কিন্তু ঢাকার ডেমরা এলাকায়।
ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তার বাবাও একজন মাদরাসা শিক্ষক ছিলেন, তাই পারিবারিকভাবেই তিনি ইসলামের আলোয় বেড়ে উঠেছেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
অনেকেই ভাবেন হুজুররা শুধু মাদরাসাতেই পড়েন। কিন্তু মিজানুর রহমান আজহারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা বা রেজাল্ট শুনলে আপনি চমকে যাবেন। তার শিক্ষাগত অর্জন ও গবেষণামূলক কাজ তাকে একজন ব্যতিক্রমী ইসলামি স্কলার হিসেবে পরিচিত করেছে। সো চলুন দেখে নিই তার অর্জনের ঝুড়ি:
তিনি দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল (২০০৪) ও আলিম (২০০৬) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। শুধু তাই নয়, তিনি বোর্ড মেধা তালিকায় শীর্ষস্থান অধিকার করেছিলেন।
এরপর তিনি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামি বিদ্যাপীঠ মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তোফাসির ও কুরআনিল উলুম বিভাগে স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করেন।
সেখান থেকেই তার নামের শেষে আজহারী উপাধি যুক্ত হয়। এরপর তিনি মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে এমফিল এবং পিএইচডি গবেষণা করেন।
এতেই বোঝা যায়, তিনি শুধু একজন বক্তাই নন, একজন উচ্চশিক্ষিত স্কলার। তার এই অগাধ জ্ঞানই তাকে সাধারণ বক্তাদের থেকে আলাদা করেছে।
কর্মজীবন ও জনপ্রিয়তার রহস্য
মিজানুর রহমান আজহারী কেন এত ভাইরাল? দেখুন, আমরা যারা তরুণ, আমরা চাই লজিক বা যুক্তি। আজহারী হুজুর ঠিক এই জায়গাটাতেই কাজ করেছেন।
তিনি পুরোনো সুরে ওয়াজ না করে, সমসাময়িক সমস্যা, বিজ্ঞান এবং সামাজিক ইস্যু নিয়ে কথা বলেন। তার স্মার্টনেস, ইংরেজি বলার দক্ষতা এবং শালীন উপস্থাপনা তাকে সব শ্রেণীর মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
২০২৫-২৬ সালের দিকে এসেও আমরা দেখছি, তার পুরোনো ভিডিওগুলো এখনো মানুষ সমান আগ্রহে দেখছে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়াকে ইসলাম প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন।
পারিবারিক জীবন (Family Life)
অনেকেই এখনো আমরা জানি না যে মিজানুর রহমান আজহারীর স্ত্রী কে? বা তার সন্তান কয়জন?।
মিজানুর রহমান আজহারী হুজুর ২০১৪ সালে ২৯ জানুয়ারি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
তার স্ত্রীর নাম প্রাইভেসির জন্য এখনো প্রকাশ পাওয়া যায়নি। তবে আল্লাহর রহমতে তিনি দুই কন্যাসন্তানের জনক।
তিনি তার পরিবারকে সবসময় মিডিয়ার আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন, যা একজন ব্যক্তিত্ববান মানুষের পরিচয় বহন করে।
২০২৬ সালে মিজানুর রহমান আজহারী কোথায় আছেন?
এটা এখনকার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বেশ কয়েক বছর তিনি দেশ ও প্রবাসে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন।
তবে সর্বশেষ কিছু তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালেও তিনি বিশ্বজুড়ে ইসলাম প্রচারের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে সেমিনার ও পিস কনফারেন্সে অংশ নিচ্ছেন।
পাশাপাশি তার সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে নিয়মিত লাইভ প্রোগ্রাম করে কোটি মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিচ্ছেন।
তার ভক্তরা এখনো আশায় আছেন, তিনি আবারও বাংলাদেশের মাটিতে বড় কোনো মাহফিলে সরাসরি কথা বলবেন। আর আমিও এটাই চায়।
এক নজরে ড: মিজানুর রহমান আজহারী
পূর্ণ নাম: মিজানুর রহমান আজহারী জন্ম: ২৬ জানুয়ারি ১৯৯০ শিক্ষা: আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় পেশা: ইসলামি চিন্তাবিদ ও বক্তা
বিতর্ক ও সমালোচনা
চাঁদ থাকলে যেমন কলঙ্ক থাকে, তেমনি বিখ্যাত হলে সমালোচনা তো থাকবেই। তার কিছু বক্তব্য নিয়ে অতীতে সমালোচনা হয়েছিল।
তবে তিনি সবসময় গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং কোনো ভুল হলে তা শুধরে নেওয়ার মানসিকতা দেখিয়েছেন। এটাই তাকে আরও বড় মনের মানুষ হিসেবে প্রমাণ করে।
মিজানুর রহমান আজহারীকে আমার কিছু কথা
প্রিয় বন্ধুরা, ড. মিজানুর রহমান আজহারী শুধু একজন বক্তা নন, তিনি একটি জাগরণের নাম। তিনি শিখিয়েছেন কীভাবে আধুনিক শিক্ষার সাথে ইসলামী শিক্ষার সমন্বয় করতে হয়। তা তার জীবনী থেকে আমরা শিখতে পারি। ধৈর্য, মেধা এবং পরিশ্রম থাকলে আল্লাহ মানুষকে কত উচ্চ সম্মান দিতে পারেন। তাই না?
আপনার কাছে আজহারী হুজুরের কোন আলোচনাটি সবচেয়ে ভালো লাগে? নিচে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু! আমরা আপনাদের কমেন্টের অপেক্ষায় রইলাম। সবাইকে আল্লাহ হাফেজ।
FAQ:
প্রশ্ন: মিজানুর রহমান আজহারীর আসল নাম কী?
উত্তর: তার জন্মগত নাম মিজানুর রহমান। মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কারণে নামের শেষে ‘আজহারী’ উপাধি যুক্ত হয়েছে।
প্রশ্ন: মিজানুর রহমান আজহারী বর্তমানে কোথায় আছেন?
উত্তর: সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই গবেষণা ও ইসলাম প্রচারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রশ্ন: আজহারী হুজুরের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?
উত্তর: তিনি মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন এবং মালয়েশিয়ার আইআইইউএম (IIUM) থেকে এমফিল ও পিএইচডি গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।
প্রশ্ন: মিজানুর রহমান আজহারীর ফোন নাম্বার পাওয়া যাবে কি?
উত্তর: তিনি একজন পাবলিক ফিগার হওয়ায় তার ব্যক্তিগত ফোন নাম্বার জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয় না। তবে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ বা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে পারেন।


