নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম ও অনলাইনে আবেদন ২০২৬

নতুন ভোটার আইডি কার্ড (NID) করার নিয়ম ২০২৬ | অনলাইনে আবেদন থেকে কার্ড পাওয়া পর্যন্ত A-Z

২০২৬ সালে বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা ভোটার আইডি কার্ড পাওয়া আরও সহজ হয়েছে। এখন ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী যেকোনো বাংলাদেশী নাগরিক নতুন NID এর জন্য আবেদন করতে পারেন। ১৮ বছর হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার লিস্টে যোগ হবেন। আমরা তো সবাই জানি যে NID কার্ড ছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, সিম কেনা, চাকরি, পাসপোর্ট বা অন্যান্য সরকারি সেবা নেওয়া সবই কঠিন। তাই আমি এই আর্টিকেলে আপনাকে ধাপে ধাপে দেখাবো কীভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন, কী কী ডকুমেন্টস লাগবে এবং আইডি কার্ড কীভাবে হাতে পাবেন। তার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া তো চলুন শুরু করি তাহলে……

নতুন NID-এর জন্য কারা আবেদন করতে পারবে?

প্রথমত বাংলাদেশের নাগরিক, বয়স কমপক্ষে ১৬ বছর (২০২৫ সালের হিসাবে) হতে হবে।, আর যাদের আগে কখনো NID করা হয়নি, এবং যারা নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করছেন।

দ্রষ্টব্য: ১৬-১৭ বছর বয়সীরা NID পাবেন, কিন্তু ১৮ হওয়ার আগে ভোট দিতে পারবেন না।

নতুন ভোটার আইডি কার্ড করতে কি কি লাগে

ঠিকআছে, অনলাইনে আবেদনের সময় স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে না, কিন্তু প্রিন্ট ফর্মের সাথে নিচের ডকুমেন্টসের ফটোকপি জমা দিতে হবে উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে:

  1. অনলাইনে পূরণকৃত ও প্রিন্ট করা আবেদন ফর্ম। যেটা আপনি অনলাইনে আবেদন করেছিলেন সেটার প্রিন্ট কপি।
  2. অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (বাংলা ও ইংরেজি কপি)। মানে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন এর ফটোকপি।
  3. SSC বা সমমানের সার্টিফিকেট (যদি থাকে)। এটা না দিলেও হবে।
  4. পিতা-মাতার NID কার্ডের ফটোকপি। অবশ্যই লাগবে।
  5. বিবাহিত হলে স্বামী/স্ত্রীর NID কার্ড বা কাবিননামা লাগতে পারে।
  6. নাগরিকত্ব সনদ বা ইউপি চেয়ারম্যান/কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র।
  7. হোল্ডিং ট্যাক্স বা ইউপি করের রশিদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
  8. পূর্বে ভোটার না হওয়ার অঙ্গীকারনামা (চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন)। চেয়ারম্যান কে বললেই করে দিবে।

অনলাইনে নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম ধাপে ধাপে

প্রথমত আপনাদের সুবিধার্থে আমি তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লিংক দিলাম: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান

নতুন ভোটার আইডি কার্ড (NID) করার সাইট প্রবেশ এর পর দেখানো স্ক্রীনশট

  1. এবার এই ওয়েবসাইটে যান এবং নতুন নিবন্ধন বা New Registration অপশন সিলেক্ট করুন। বা বটুনে টাচ করুন।
  2. এখন আপনার বর্তমান ঠিকানা, ভোটার এলাকা (উপজেলা/থানা) সিলেক্ট করুন। তবে ঠিকানা ও ভোটার এলাকা নির্বাচনের সময় বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন, কারণ ভুল হলে পরবর্তীতে সংশোধন প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে।
  3. তারপর ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন যেমন: নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা ইত্যাদি। এগুলো কিন্তু লিগ্যাল বা আপনার জন্ম নিবন্ধন এর কাগজ দেখে লিখবেন।
  4. ব্যাস ফর্ম পূরণ শেষ এবার সাবমিট করুন এবং PDF ফর্ম ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন। আর এটা হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ নাহয় পরে করবো নি বলে রেখে দিলে আজ করবো কাল করবো শেষে ভুলেই যায় কবে করবো।

প্রিন্ট ফর্ম জমা ও বায়োমেট্রিক দেওয়ার প্রসেস বা নতুন ভোটার আইডি কার্ড করতে কি কি লাগে

  • প্রিন্ট ফর্মে পিতা/মাতা/নিকটাত্মীয়ের NID নম্বর ও স্বাক্ষর নিন (ফর্মের নির্দিষ্ট জায়গায়)। মানে সেখানে বলাই আছে কোথায় দিতে হবে সেখানে দিন।
  • তারপর চেয়ারম্যান/কাউন্সিলরের সিল-স্বাক্ষর নিতে হবে।
  • সব ডকুমেন্টসসহ নিকটস্থ উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে জমা দিন।
  • অফিস থেকে আপনাকে বায়োমেট্রিক (ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, আইরিস স্ক্যান) দেওয়ার জন্য ডাকা হবে। পূর্বের প্রসেস শেষ হলে।
  • বায়োমেট্রিক সহ সবকিছু ঠিকঠাক দেওয়ার পর একটি ভোটার রেজিস্ট্রেশন স্লিপ পাবেন। তবে এগুলো করতে কি টাকা লাগে? নাকি ফ্রি?

কত টাকা লাগে?

নতুন NID রেজিস্ট্রেশনের জন্য কোনো সরকারি ফি নির্ধারিত নেই। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বিনামূল্যে সম্পন্ন করা হয়। (শুধু সংশোধন বা রি-ইস্যুতে ফি লাগতে পারে।)

নতুন আইডি কার্ড পেতে কতদিন লাগে?

আসলে বায়োমেট্রিকের পর ১৫-৩০ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়টি অনুমোদন হয়। আর অনুমোদিত হলে সেটি আপনি একটি ওয়েবসাইট থেকে ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করতে পারবেন। তবে ফিজিক্যাল স্মার্ট কার্ড যাকে আমরা ভোটার আইডে কার্ড বলি সেটা মূলত উপজেলা অফিস থেকেই পাবেন যেটা একটি SMS দিয়ে জানানো হবে।

নতুন ভোটার আইডি কার্ড চেক অনলাইনে অথবা NID ডাউনলোড করার নিয়ম

প্রথমে সেই ওয়েবসাইটে লগইন করুন >> এবার ফর্ম নম্বর বা NID নম্বর দিন>> ব্যাস ডাউনলোড করুন। অথবা

স্মার্ট কার্ড স্ট্যাটাস চেক এভাবে করতে পারেন: মোবাইলের মেসেজ এ গিয়ে লিখুন SC <স্পেস> ফর্ম নম্বর <স্পেস> D <স্পেস> জন্মতারিখ (DD-MM-YYYY) লিখে 105-নাম্বারে SMS পাঠিয়ে দিন।

ফিরতি মেসেজ এ লিখা থাকবে যেটা আপনি পড়লেই বঝতে পারবেন।

নতুন ভোটার আইডি কার্ড করতে গিয়ে সাধারণ কিছু সমস্যা ও তার সমাধান

প্রখমবার তো কাজটা করতে গিয়ে ভুল হতেই পারে তাহলে কি করবেন। বা এই ধরণের সমস্য তার সমাধান কি? চলুন এই ব্যাপারে কিছু বলি……

ভুল তথ্য হলে কি করবো:

সাধারণত তথ্য ভুল হলে সংশোধনের জন্য উপজেলা অফিসে আবেদন করুন তবে মনে রাখবেন সাপোর্টিং ডকুমেন্টসসহ আবেদন করতে হবে।

আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে কি করবেন?:

ভাই NID হারিয়ে গেলে প্রথমত অনলাইনে রি-ইস্যু আবেদন করতে হবে। অথবা থানায় GD করতে হবে। আর প্রবাসী হলে বিদেশী মিশনে আবেদন করতে পারেন এটাতে বেশ কিছু বিশেষ নিয়ম আছে। ফলো করলেই হয়ে যাবে আশা করি…. তাও যদি কোনো সমস্য হয় তাহলে অবশ্যই হেল্পলাইন ১০৫ অথবা নিকটস্থ নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।

প্রতিনিয়ত কিছু প্রশ্ন পাচ্ছি যেগুলোর বেশীর ভাগ-ই নতুন ভোটার আইডি কার্ড বিষয়ে

 

১৬ বছরে NID পাবো?

হ্যাঁ, কিন্তু ভোট দিতে ১৮ হতে হবে।

অনলাইনে শুধু আবেদন করলেই হবে?

না, প্রিন্ট ফর্ম জমা ও বায়োমেট্রিক দিতে হবে।

কতদিন পর কার্ড রিনিউ করতে হয়?

১৫ বছর পর।

ফি লাগবে না তো?

না, নতুন রেজিস্ট্রেশন ফ্রি।

আবেদন স্ট্যাটাস কীভাবে চেক করব?

ওয়েবসাইটে লগইন করে।

বস্ আশা করি এই গাইড অনুসরণ করে আবেদন করুন হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ্। সো ‍উপরের নিয়মে আজই আবেদন শুরু করুন। যদি কোনো সমস্যা হয়, কমেন্টে জানান আমি যত দ্রুত সম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করবো! আর আপনার কাছে একটা অনুরোধ অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন এবং পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদের সাহায্য করুন।

আমি কিন্তু এই আর্টিকেলটি লিখেছি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (nidw.gov.bd & services.nidw.gov.bd) ডিসেম্বর ২০২৫ এর আপডেট অনুযায়ী।

সো সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন….. আল্লাহ হাফেজ।

×
Scroll to Top