আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় পাঠক বন্ধুরা। আশা করি শরীর ও মন দুই দিক দিয়েই ভালো আছেন। আজকে আপনাদের সাথে খুব সিরিয়াস কিন্তু ইন্টারেস্টিং একটা বিষয় অনলাইন ব্যবসা নিয়ে কথা বলবো।
তো বর্তমান বাজারের যে অবস্থা, তাতে শুধু একটা চাকরির বেতনের ওপর নির্ভর করে কি সংসার চালানো সম্ভব? উত্তরটা বোধহয় না।
কেন আপনি চাকরির পেছনে না ঘুরে ব্যবসার কথা ভাববেন?
আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, যাদের হাতে সাইড ইনকাম বা নিজের ছোটখাটো একটা অনলাইন ব্যবসা আছে, তারা দিনশেষে একটু বেশিই রিলাক্স থাকে।
আপনি হয়তো ভাবছেন, ভাই, ব্যবসা করতে তো লাখ লাখ টাকা লাগে, আমার কাছে তো নেই। বিশ্বাস করুন, এই ধারণাটা এখন অচল।
২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আপনি যদি স্মার্টফোনটা ঠিকঠাক ব্যবহার করতে পারেন, তবে মাত্র ৫-১০ হাজার টাকা বা একদম শূন্য পুঁজিতেও ব্যবসা শুরু করা সম্ভব।
আজকে আমি আপনাদের একদম প্র্যাকটিক্যাল ৫টি ব্যবসার আইডিয়া দেব, যা আমি আমার পরিচিত অনেককে করতে দেখেছি এবং তারা এখন বেশ সফল।
রিসেলিং ব্যবসা Reselling Business
এটা আমার সবচেয়ে পছন্দের বিজনেস মডেল। আপনার কাছে যদি পণ্য কেনার টাকা না থাকে, তবুও এটা করতে পারবেন।
বর্তমানে অনেক অ্যাপ বা পাইকারি সেলার আছে যারা আপনাকে পণ্যের ছবি দেবে। আপনি সেই ছবি নিজের ফেসবুক পেজে বা গ্রুপে শেয়ার করবেন।
কাস্টমার যখন অর্ডার করবে, আপনি শুধু পাইকারি সেলারকে অর্ডারটা ফরওয়ার্ড করে দেবেন।
মাঝখান থেকে আপনি আপনার লাভের অংশটা পেয়ে যাবেন। ধরুন, একটা পাঞ্জাবির পাইকারি দাম ৫০০ টাকা, আপনি বিক্রি করলেন ৭০০ টাকায়।
পণ্য ডেলিভারি বা প্যাকিংয়ের ঝামেলা সেলারের, কিন্তু ২০০ টাকা লাভ আপনার পকেটে। দারুণ না?
হোমমেড ফুড ডেলিভারি বা Homemade Food
ভাইরে, ভোজনরসিক বাঙালির কাছে খাবারের ব্যবসার কোনো লস নেই, যদি স্বাদ আর মান ঠিক রাখতে পারেন। বিশেষ করে যারা ব্যাচেলর বা অফিসে কাজ করেন, তারা ঘরের খাবারের জন্য পাগল।
আপনার বা আপনার পরিবারের কারো যদি রান্নার হাত ভালো হয়, তবে আজই একটা ফেসবুক পেজ খুলে ফেলুন। প্রথমে অল্প আইটেম দিয়ে শুরু করুন যেমন শুধু ভর্তা-ভাত বা খিচুড়ি প্যাকেজ।
বিশ্বাস করেন, হাইজিনে মেইনটেইন করলে আর স্বাদ ভালো হলে, কাস্টমার আপনাকে খুঁজবে। আমার এক পরিচিত আপু শুধু আচার বিক্রি করে
এখন মাসে ৫০ হাজার টাকা লাভ করে। আপনিও এমন কিছু আইডিয়া ভাবুন না?
কাস্টমাইজড গিফট আইটেম
এখন মানুষ গতানুগতিক গিফটের চেয়েও কাস্টমাইজড জিনিস বেশি পছন্দ করে। যেমন মগে ছবি প্রিন্ট, টি-শার্টে নাম লেখা, বা কাঠের ওপর খোদাই করা প্রিয় মানুষের নাম
এগুলোর চাহিদা প্রচুর পরিমান। প্রথমে শুরু করুন পরে ধিরে ধিরে অনলাইন ব্যবসায় যোগ দিবনে একলাফে উঠতে যায়েন না।
আপনি চকবাজার বা অনলাইনে পাইকারি মার্কেট থেকে প্লেইন মগ বা টি-শার্ট কিনে আনলেন।
তারপর স্থানীয় কোনো প্রিন্টিং দোকান থেকে ডিজাইন করে নিলেন অথবা নিজেই একটু ইউটিউব দেখে শিখে নিলেন।
এই ব্যবসায় প্রফিট মার্জিন অনেক বেশি। ১০০ টাকার মগ ডিজাইন করে ৩০০-৪০০ টাকায় অনায়াসেই বিক্রি করা যায়।
ডিজিটাল সার্ভিস বা স্কিল বিক্রি
এটা একদম জিরো ইনভেস্টমেন্টের ব্যবসা। আপনার যদি লেখালেখি, গ্রাফিক ডিজাইন বা ভিডিও এডিটিংয়ের দক্ষতা থাকে, তবে সেটাই আপনার পণ্য।
ফাইবার বা আপওয়ার্কের কথা বলছি না, লোকাল মার্কেটেই এখন এটার প্রচুর চাহিদা।
বিভিন্ন ই-কমার্স পেজের জন্য কন্টেন্ট লিখে বা তাদের প্রোডাক্টের ভিডিও এডিট করে দিয়ে আপনি মাসে ভালো একটা অ্যামাউন্ট ইনকাম করতে পারেন।
এটাকে ফ্রিল্যান্সিং না ভেবে একটা সার্ভিস এজেন্সি হিসেবে চিন্তা করুন। ধীরে ধীরে কাজ বাড়লে মানুষ নিয়োগ দেবেন।
অর্গানিক বা বিষমুক্ত পণ্যের ব্যবসা
শহরের মানুষ এখন স্বাস্থ্যের ব্যাপারে খুব সচেতন। গ্রাম থেকে খাঁটি সরিষার তেল, গাওয়া ঘি, বা সুন্দরবনের মধু সংগ্রহ করে শহরে বিক্রি করা এটা এখন হট কেকের মতো চলে।
তবে হ্যাঁ, অনলাইন এ ব্যবসা করতে হলে অবস্যই সততা ১০০% থাকতে হবে। একবার যদি কাস্টমার আপনার পণ্যের ওপর বিশ্বাস পায়, তবে তাকে আর অন্য কোথাও যেতে হবে না।
প্রথমে অল্প করে স্যাম্পল আনুন, নিজে ব্যবহার করুন, তারপর বিক্রির জন্য পেজে দিন।
সফল হওয়ার জন্য আমার কিছু পার্সোনাল টিপস:
ভাই, আজকে পেজ খুললেন আর কালকে থেকে অর্ডার আসা শুরু হবে এমনটা ভাববেন না। অন্তত ৩-৬ মাস সময় দিন।
কাস্টমারের সাথে এমনভাবে কথা বলবেন যেন সে আপনার আত্মীয়। রুক্ষ ব্যবহারে কাস্টমার একবার কিনলেও আর ফিরে আসবে না।
শুধু পণ্য আনলেই হবে না, সেটা সুন্দর করে ছবি তুলে গুছিয়ে ক্যাপশন লিখতে হবে। মানুষের চোখের ক্ষুধা আগে মেটাতে হবে। প্রয়োজনে AI এর হেল্প নিন।
আমার প্রিয় কথা
ব্যবসা ছোট হোক বা বড়, নিজের একটা পরিচয় থাকাটা খুব গর্বের। তবে পেছনে কিছু লোক কিছু বলবেই আর সেই কথা কানে না নিয়ে আজই বিসমিল্লাহ বলে শুরু করে দিন।
আপনার যদি ইচ্ছা থাকে, আল্লাহ অবশ্যই বরকত দেবেন। আমার প্রিয় এই আর্টিকেলটি পড়ে যদি মনে হয় কোনো উপকার পেরেছি,
তবে দয়া করে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আর কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাবেন, আমি আছি তো আপনাদের সাথে।
FAQ
প্রশ্ন: অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে কি ট্রেড লাইসেন্স লাগে?
শুরুতে একদম ছোট পরিসরে (যেমন ফেসবুকে) করলে ট্রেড লাইসেন্স না হলেও চলে। তবে ব্যবসা বড় হলে এবং আইনি ঝামেলা এড়াতে ট্রেড লাইসেন্স করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
প্রশ্ন: কাস্টমার বিশ্বাস করবে কীভাবে?
শুরুতে ক্যাশ অন ডেলিভারি (Cash on Delivery) সুবিধা দিন। আর পেজে নিজের আসল পরিচয় বা ভিডিও কন্টেন্ট দিলে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা সহজ হয়।
প্রশ্ন: আমি ছাত্র, পড়াশোনার পাশাপাশি কোন ব্যবসাটা ভালো হবে?
ছাত্রদের জন্য রিসেলিং বা টি-শার্ট ডিজাইন বা নোটস বিক্রির ব্যবসা সবচেয়ে ভালো। এতে পুঁজি লাগে না এবং পড়ার ক্ষতি হয় না।
প্রশ্ন: ডেলিভারি দেব কীভাবে?
এখন রেডএক্স, পাঠাও বা পেপারফ্লাইয়ের মতো অনেক কুরিয়ার সার্ভিস আছে যারা আপনার বাসা থেকে পণ্য নিয়ে কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দেবে।


