আসসালামুয়ালাইকুম, আমার প্রিয় পাঠক বৃন্দ আশা করছি নিশ্চয় আল্লাহপাক এর রহমতে ভালোই আছেন। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, কুরআন পড়েন, রমজান মাসে রোজা রাখেন আবার তাহাজ্জুদের নামাজেও পড়েন। কিন্তু যখন তিনি একাকী সময় পার করেন তখন তিনি গোপন পাপে লিপ্ত হন। কিন্তু মনে মনে তিনি চান কিভাবে এই পাপ থেকে বেঁচে থাকা যায়। তাহলে আজকের আর্টিকেলটি শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা এ পথ থেকে ফিরে আসতে চান। কারণ আজকে আমি আলোচনা করবো পর্ন আসক্তি বা গোপন পাপ থেকে বেঁচে ফিরবেন।
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইল। যেন আপনি প্রতিটা বিষয় ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারেন এবং এই নোংরা জীবন থেকে ফিরে আসতে পারেন।
হেদায়েত একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে তবে কখন কোথায় থেকে আসবে সেইটা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ বলতে পারেনা। হতে পারে আজকের এই আর্টিকেলটির ওসিলায় আপনি অভিশপ্ত জীবন থেকে ফিরে এসে আল্লাহর নিকট্য অর্জন করতে পারেন ।
আজকের আর্টিকেলটি তে আমরা জানব
- আমরা কেন পর্নগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ি?
- কেন গোপন পাপ ছাড়তে পারিনা?
- গোপন পাপের ইহকাল ও পরকালের শাস্তি কি হতে পারে?
- পর্নগ্রাফি আসক্তি বা গোপন পাপ থেকে ফিরে আসার উপায়?
- গোপন পাপ থেকে ফিরে আসলে জীবনে কি কি পরিবর্তন আসবে?
এইরকম বিভিন্ন প্রশ্ন উত্তর নিয়ে আজকের আর্টিকেলটি সাজানো হয়েছে । চলুন শুরু করা যাক।
পর্নোগ্রাফি বা গোপন পাপে আসক্ত হওয়ার কারণ
পর্নোগ্রাফি বা গোপন পাপে আসক্ত হয়ে পড়াটা আমার মতে একটি মানসিক ব্যাধি। বা ডোপামিনের খেলা! মনোবিজ্ঞান বলে মানুষের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু হরমোন নিঃসরণ বাধ্য করে নির্দিষ্ট কিছু কিছু কাজ করার জন্য।
এর সবথেকে ভালো উদাহরণ হতে পারে, কোন এক লোক একা একা বসে মুভি দেখছে। মুভির একটা দৃশ্যে সে খারাপ কিছু দেখলো এবং সেখান থেকে কিছু খারাপ চিন্তা তার মাথায় আসতে পারে । এক পর্যায়ে সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে গোপন পাপে জড়িয়ে পরতে পারে।
আবার অনেক সময় রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় বা কোথাও ঘুরতে গেলে সে এমন কিছু তার চোখে পড়ে যা তার মনে খারাপ অনুভূতি সৃষ্টি করে। এবং সে যখন একা থাকে তখন তার মনে সেই দৃশ্যগুলো আসতে পারে। এইভাবে অনেকে খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে।
এবং একই ঘটনাগুলো বারবার ঘটতে পারে। এবং আস্তে আস্তে এক সময় মানুষ গোপন পাপ বা পর্নোগ্রাফিতে পুরোপুরি ভাবে আসক্ত হতে পারে। এবং পরবর্তীতে চাইলেও আর সহজে ফিরে আসতে পারে না।
এই সমস্ত গোপন পাপে জড়িয়ে পড়লে পরকালে তো শাস্তি আছেই তার সাথে ইহকালেও শাস্তি ভোগ করতে হবে।
পর্ন আসক্ত হলে যেসব শাস্তি ইহকালে ভোগ করতে হবে
- চেহারার উজ্জ্বলতা চলে যাবে।
- সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা হারাবে।
- সংসার জীবনের চিরস্থায়ী অসুখী হতে পারে।
- শরীর অনেক দুর্বল হয়ে পড়বে ।
- অল্প বয়সে বার্ধক্য চলে আসবে।
- মস্তিষ্কের ক্ষয় ঘটবে।
- শুক্রাণু কমে যাবে।
- প্রস্টেট ক্যান্সার হতে পারে।
- কিডনি বিকল হতে পারে।
গোপন পাপে জড়িয়ে থাকলে ইহকালীন জীবনে এই সমস্ত প্রধান সমস্যা ছাড়াও আরো অনেক সমস্যাই পরতে হতে পারে। এর থেকে পরকালীন জীবনে শাস্তি আরো অনেক বেশি হবে।
গোপন পাপে আসক্ত হলে পরকালীন জীবনে যেসব শাস্তি ভোগ করতে হবে
মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআনের একটা আয়াতে বলেছেন: তোমরা যেনার ধারে কাছেও যেও না।
আবার আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন : একবার যেনা করলে ৭০০০ বছর জাহান্নামের আগুনে পুড়তে হবে।
যে কাজ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অপছন্দ করতেন বা যে কাজের ধারে কাছে যাওয়া সমস্ত মুসলিম জাতির জন্য নিষিদ্ধ সে কাজের শাস্তি সম্পর্কে আর কিছু বলার প্রয়োজন হয় না।
একটা হাদিস এসেছে: যারা গোপন পাপে লিপ্ত হবে কিয়ামতের দিন তাদের আঙ্গুল ফেটে বাচ্চা বের হবে।
আর যে জানার পরেও পাপে লিপ্ত হয় তার জন্য শাস্তি তো আরো ভয়াবহ। তাই যারা ইচ্ছাকৃতভাবে অনিচ্ছাকৃতভাবে এ পাপে জড়িয়ে পড়েছেন তারা দ্রুত সে পথ থেকে ফিরে আসুন নয়তো এর ভয়াবহতা আপনাকে ধ্বংস করে দেবে।
পর্ন আসক্তি বা গোপন পাপ থেকে ফিরে আসার উপায়
পর্নগ্রাফি আসক্তি বা গোপন পাপে একবার আসক্ত হয়ে পড়লে সেখান থেকে ফিরে আসা অনেক কষ্টকর। তবে কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করার মাধ্যমে এরপর থেকে সরে আসা সম্ভব।
সাধারণত এসব গোপন পাকে জড়ো জড়িত তারা যখন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেই বা অন্য কারো সাথে থাকে তখন তাদের মনে এ সকল চিন্তাভাবনা আসে না। তবে যখন তারা একা থাকে বা নির্দিষ্ট কোন সময়ে এ পাপে জড়িয়ে পড়ে।
তাই প্রথমত কখন কোথায় কিভাবে তারা এই খারাপ অভ্যাসের শিকার হচ্ছে। সেটা চিহ্নিত করতে হবে। এবং ওই সময় দিতে একা না থাকা বা অন্য কোন কাজ করার চেষ্টা করতে হবে।
আবার আরো যদি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন দৃশ্য চোখে পড়ার পর যদি গোপন পাপে জড়িয়ে পরে। তবে তাদের উচিত অপ্রয়োজনে সোশ্যাল মিডিয়ায় না থাকা। আমার মতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ফলে যদি এ ধরনের সমস্যা হয় তাহলে ব্যবহার না করাই ভালো।
আবার অনেক সময় কম্পিউটার ল্যাপটপ বা ফোন একাকী ব্যবহার করলে যদি খারাপ অনুভূতি মনে আসে। তবে তাদের উচিত একাকী এগুলো ডিভাইস ব্যবহার না করা।
কথায় আছে অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। তাই অবসর সময়ে খেলাধুলা, বই পড়া, শরীর চর্চা করা একটা দিবি বিভিন্ন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে গোপন পাপ থেকে ফিরে যেতে পারে।
এছাড়াও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া, নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত করা ও নফল রোজা রেখে আল্লাহর ইবাদতে সব সময় নিজেকে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে এই সকল পাপ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।
পর্ন আসক্তি থেকে ফিরে আসলে জীবনে যেগুলো পরিবর্তন আসবে
আল্লাহ তায়ালা বলেন: যে ব্যক্তি পাপ করল এবং তার ভুল বুঝতে পেরে মন থেকে ক্ষমা চাইল,সেই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে অধিক উত্তম।
আমরা মানুষ আমাদের ভুল হবে এইতো স্বাভাবিক তবে ভুল করার পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং পুনরায় যেন সে ভুলটা না হয় সেই দিকে সতর্ক থাকতে হবে।
আল্লাহ চাইলে আমাদের ক্ষমা করে দিতে পারেন। এবং দয়া করে চির শান্তির জান্নাত দান করতেও পারেন।
একটা গবেষণা দেখা গেছে কোন ব্যক্তি যদি গোপন পাপে লিপ্ত হওয়ার পরে আবার ফিরে আসে এবং একা ধরে ৯০ দিন পুনরায় না করে। তাহলে এই পাপে লিপ্ত হওয়ার পর তার শারীরিক যে যে ক্ষতি হয়েছিল আস্তে আস্তে পুরন মত থাকে।
ধীরে ধীরে চেহারার উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে, শরীরে শক্তি ফিরে আসবে, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাবে ইত্যাদি।
আমার প্রিয় কথা
আমাদের চলার পথে বিভিন্নভাবে আমরা পাপে জড়িয়ে পড়ি। তবে আমাদের বিবেক কাজে লাগিয়ে পাপ পরিত্যাগ করে সত্যের পথে ফিরে আসতে হবে। এবং যতদিন নিঃশ্বাস আছে আল্লার নৈকট্য অর্জনের জন্য চেষ্টা করতে হবে।
ভুল হলে ক্ষমা চাইতে হবে। মনে প্রানে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে আমাকে দুনিয়ার কেউ না দেখলেও আল্লাহ সব সময় দেখছেন। তবেই গোপন পাপ থেকে ফিরে আসা সম্ভব হবে।
অল্প কথার মাধ্যমে আপনাদের গোপন বাপের ক্ষতিকর দিক গুলো এবং এখান থেকে ফিরে আসার উপায় আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন।
লিখার মাঝে বিভিন্ন রকম ভুল থাকতে পারে। ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এইরকম আরো আর্টিকেল পেতে আমার প্রিয় ডট কম এর সাথেই থাকুন।
FAQ
প্রশ্ন: গোপন পাপে লিপ্ত হয়ে তওবা করলে কি আল্লাহ ক্ষমা করবেন?
উত্তর: অবশ্যই। আল্লাহ তায়ালা দয়াবান। আপনি যদি মন থেকে তওবা করেন এবং পুনরায় ওই পাপে না যাওয়ার শপথ করেন, তবে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দেবেন।
প্রশ্ন: পর্ন আসক্তি কি আসলেই কোনো রোগ?
উত্তর: হ্যাঁ, এটি একটি আসক্তি যা মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। তবে সঠিক মানসিক সংকল্প ও ইবাদতের মাধ্যমে এটি দূর করা সম্ভব।
প্রশ্ন: নামাজ পড়লেও কেন গোপন পাপ ছাড়তে পারছি না?
উত্তর: এর কারণ হলো শয়তানের কুমন্ত্রণা এবং একাকিত্ব। নামাজের পাশাপাশি আপনাকে আপনার পরিবেশ পরিবর্তন করতে হবে এবং একাকী ডিভাইস ব্যাবহার (ব্যবহার) বন্ধ করতে হবে।


