স্লো মোবাইল ফোন ফাস্ট করার ৭টি উপায় (২০২৬)
আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা! কেমন আছেন সবাই? আশা করি প্রযুক্তির এই ফাস্টটেস্ট 5G যুগে আশা করছি নিশ্চয় আপনারা ভালোই আছেন। তবে একটা সত্যি কথা বলুন তো, আপনার মন মেজাজ কি একটু খারাপ? আর এর পেছনের কারণটা কি আপনার হাতের শখের স্মার্টফোনটি? আমি নিজে মোবাইল ফাস্ট করার জন্য অনেক উপায় দেখেছি কিন্তু তেমন কাজ হতো না।
বিশ্বাস করুন, আমি আপনার কষ্টটা হাড়হাঁড়ে বুঝি। একটা সময় ছিল যখন আমিও এই বিরক্তিকর সমস্যায় ভুগতাম। খুব শখ করে জমানো টাকায় কেনা ফোনটা যখন ২-৩ বছর পর কচ্ছপের গতিতে চলতে শুরু করে, তখন মেজাজ ঠিক রাখা সত্যিই কঠিন। ইমার্জেন্সি কোনো অ্যাপ ওপেন করতে ১০ সেকেন্ড সময় নিচ্ছে, গেম খেলতে গেলে ল্যাগ করছে, আর মাল্টিটাস্কিং? সেটা তো এখন দিবাসপ্ন!
অনেকে হয়তো ভাবছেন, “ধুর! ফোনটা চেঞ্জ করে ফেলি।” কিন্তু দাঁড়ান! ২০২৬ সালে এসে ফ্ল্যাগশিপ ফোনের দাম যা বেড়েছে, তাতে হুট করে ফোন বদলানো সবার পক্ষে সম্ভব না। আর সত্যি বলতে, দরকারও নেই। আজ আমার প্রিয় ডটকম-এর এই আর্টিকেলে আমি আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে এমন ৭টি টেকনিক শেয়ার করব, যা অ্যাপ্লাই করলে আপনার মৃতপ্রায় ফোনও আবার দৌড়াতে শুরু করবে। আমি নিজে এবং আমার ক্লায়েন্টদের ফোনে এই মেথডগুলো ব্যবহার করে দেখেছি সত্যি বলতে ফলাফল ১০০% পজিটিভ ছিলো। তাই ভাবলাম আপনাদের সাথেও স্লো মোবাইল ফাস্ট করার বিষয়টা শেয়ার করি।
তো চলুন, আর দেরি না করে এবার ফোনটাকে ফাস্ট করে ফেলি!
রিস্টার্ট বা রিবুট (আমার অভ্যাস)
শুনতে খুব সাধারণ মনে হচ্ছে, তাই না? আপনারা হয়তো ভাবছেন, “এ আর এমন কী টিপস!” কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমরা অনেকেই মাসের পর মাস ফোন রিস্টার্ট করি না। আমরা যেমন না ঘুমালে ঠিকমতো কাজ করতে পারি না, ফোনের প্রসেসরও তো একটা মেশিন, তারও তো একটু বিশ্রাম লাগে।
টানা ব্যবহারের ফলে ফোনের র্যামে (RAM) প্রচুর টেম্পোরারি জাঙ্ক ফাইল বা ক্যাশ মেমরি জমে যায়। এগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রসেসরের ওপর চাপ ফেলে, ফলে ফোন স্লো হয়ে যায়।
আমার অভিজ্ঞতা: আমি নিয়ম করে প্রতি ২-৩ দিন পর পর একবার ফোন রিস্টার্ট দিই। বিশেষ করে যখন দেখি ফোনটা একটু গরম হচ্ছে বা ল্যাগ করছে, রিস্টার্ট দিলেই ফোনটা একদম মাখনের মতো স্মুথ হয়ে যায়। এটি ফোনের মেমরি রিফ্রেশ করার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী উপায়।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের বোঝা কমান (ডিজিটাল ঝাড়ু)
ফোনের মেনু বা অ্যাপ ড্রয়ারের দিকে একটু তাকান তো। এমন কতগুলো অ্যাপ আছে যেগুলো গত ৩-৪ মাসে আপনি একবারও ওপেন করে দেখেননি? ফুড ডেলিভারি অ্যাপ, পুরোনো কোনো গেম, কিংবা ফটো এডিটিং অ্যাপ যা এখন আর কাজে লাগে না।
এই অ্যাপগুলো ফোনে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। এরা শুধু জায়গা দখল করে না, এরা ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার ফোনের র্যাম এবং ব্যাটারি—দুটোই চুষে খায়। ফলে নতুন অ্যাপ ঠিকমতো রিসোর্স পায় না।
করণীয়:
সোজা Settings > Apps-এ চলে যান। সেখানে গিয়ে দেখুন কোন অ্যাপগুলো অপ্রয়োজনীয়। একটু মায়া ত্যাগ করে সেগুলোকে ‘আনইনস্টল’ করে দিন। বিশ্বাস করুন, ফোন হালকা হলে স্পিড এমনিতেই বাড়বে। আর হ্যা, ফোনের ক্লিনজিং-এর জন্য থার্ড পার্টি ক্লিন মাস্টার অ্যাপ ব্যবহার করবেন না, ওগুলা নিজেই ফোনের বারোটা বাজায়।
ইন্টারনাল স্টোরেজকে ফাকা করে শ্বাস নিতে দিন
এটা একটা গোল্ডেন রুল বা থাম্ব রুল বলতে পারেন। আপনার ফোনের মেমোরি যদি কানায় কানায় পূর্ণ থাকে, তবে বিশ্বের সবচেয়ে দামি প্রসেসরও স্লো কাজ করবে। অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমের ঠিকঠাক রান করার জন্য অন্তত ১৫-২০% স্টোরেজ ফাঁকা থাকা জরুরি।
আমার এক ছোট ভাইয়ের ফোন খুব স্লো ছিল। চেক করে দেখি তার ১২৮ জিবির মধ্যে ১২৬ জিবিই ফুল! আমরা অপ্রয়োজনীয় ভিডিও আর ডুপ্লিকেট ছবি ডিলিট করে ১০ জিবি ফাঁকা করলাম, সাথে সাথেই ফোন ফাস্ট রেসপন্স করতে শুরু করলো।
টিপস:
-
হোয়াটসঅ্যাপের ‘Media Auto-Download’ অপশনটি অফ রাখুন। এটি অজান্তেই আপনার গ্যালারি ভরিয়ে ফেলে।
-
বড় ভিডিও ফাইলগুলো গুগল ড্রাইভে (Google Drive) বা কম্পিউটারে ব্যাকআপ নিয়ে ফোন থেকে ডিলিট করে দিন।
লাইট অ্যাপ ব্যবহার করুন (স্মার্ট বুদ্ধি)
আপনার ফোন যদি ৩ জিবি বা ৪ জিবি র্যামের হয়, তবে অরিজিনাল Facebook বা Instagram অ্যাপ ব্যবহার করা মানে নিজের পায়ে কুড়াল মারা। এই অ্যাপগুলো একেকটা মেমোরি খাদক! এগুলো ওপেন করলেই ফোনের অর্ধেক জান বেরিয়ে যায়।
আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার পুরোনো ডিভাইসে সব সময় Lite Version ব্যবহার করি।
-
Facebook Lite
-
Messenger Lite
-
Instagram Lite
এগুলো দেখতে হয়তো একটু কম গ্ল্যামারাস, কিন্তু কাজের দিক থেকে সেরা। এগুলো ফোনের রিসোর্স খুব কম ব্যবহার করে, ফলে ফোন হ্যাং হওয়ার সুযোগই পায় না। ২০২৬ সালে এসেও লাইট অ্যাপগুলো লো-এন্ড ডিভাইসের জন্য আশীর্বাদ।
অ্যানিমেশন স্কেল কমানো (আমার গোপন ট্রিক!)
এই ট্রিকসটা আমি যখন প্রথম শিখি, তখন সত্যিই অবাক হয়েছিলাম। এটা ফোনের স্পিড বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকরী এবং অনেকটা গোপন উপায় বলা চলে। এটা করলে আপনার ফোন চোখের পলকে কাজ করবে। এটি মূলত ফোনের অ্যানিমেশন এফেক্ট কমিয়ে দেয়, ফলে মনে হয় ফোন সুপারফাস্ট কাজ করছে।
যেভাবে করবেন:
১. Settings > About Phone-এ যান।
২. Build Number-এর ওপর টানা ৭ বার ট্যাপ করুন। দেখবেন Developer Options চালু হয়ে গেছে।
৩. এবার System Settings বা এডিশনাল সেটিংস থেকে Developer Options-এ যান।
৪. একটু নিচে স্ক্রল করে তিনটি অপশন খুঁজুন:
-
Window animation scale
-
Transition animation scale
-
Animator duration scale
৫. সবগুলোর মান 1x থেকে কমিয়ে 0.5x করে দিন অথবা Animation off করে দিন।
ব্যাস! এবার হোম স্ক্রিনে ফিরে আসুন আর দেখুন ম্যাজিক। অ্যাপ ওপেন হওয়া বা পেজ লোড হওয়া—সব কিছু রকেটের গতিতে হবে। এটি কোনো ভুয়া ট্রিক নয়, জাস্ট ভিজ্যুয়াল ল্যাগ কমানোর নিনজা টেকনিক!
সিস্টেম আপডেট নিয়ে ভুল ধারণা
অনেকে ভাবেন আপডেট দিলে ফোন স্লো হয়ে যায়। এটা সবসময় সত্য না (যদিও কিছু কোম্পানির বাজে আপডেটে মাঝেমধ্যে এমন হয়)। মূলত আপডেটের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো ফোনের বাগ (Bug) ফিক্স করে এবং সিকিউরিটি প্যাচ দেয় যা ফোনকে স্ট্যাবল রাখে।
বিশেষ করে Android 14 বা 15-এর পরের ভার্সনগুলোতে অপ্টিমাইজেশন অনেক ভালো করা হয়েছে। তাই System Update চেক করুন। পেন্ডিং আপডেট থাকলে ওয়াইফাই কানেক্ট করে দিয়ে দিন। তবে হ্যাঁ, খুব পুরোনো ফোনে বিশাল বড় কোনো মেজর অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন আপডেট না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। কিন্তু ছোটখাটো সিকিউরিটি আপডেটগুলো মিস করবেন না।
এবার শেষ মন্ত্র: ফ্যাক্টরি রিসেট
উপরের ৬টি উপায় অ্যাপ্লাই করার পরেও যদি দেখেন ফোনের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না, এবং ভাইরাসের কারণে ফোন উল্টাপাল্টা আচরণ করছে—তখন ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’ ছাড়া আর কোনো গতি নেই।
এটি আপনার ফোনকে ঠিক সেই অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, যেমনটা আপনি কেনার সময় প্যাকেট থেকে বের করেছিলেন। একদম ক্লিন স্লেট!
সতর্কতা: রিসেট দেওয়ার আগে অবশ্যই আপনার কন্টাক্ট নাম্বার, ছবি এবং প্রয়োজনীয় ফাইলের ব্যাকআপ নিয়ে নেবেন। কারণ রিসেট দিলে ফোনের সব ডেটা মুছে যাবে। আমি বছরে অন্তত একবার আমার ফোন রিসেট করি, এতে ফোন একদম নতুনের মতো ফ্রেশ থাকে। এরপর Settings > System > Reset options-এ গিয়ে রিসেট দিন।
আমার প্রিয় কিছু কথা
বন্ধুরা, টেকনোলজি অনেক এগিয়ে গেছে, কিন্তু ফোনের বেসিক মেইনটেনেন্স কিন্তু একই রয়ে গেছে। আপনি যদি আমার প্রিয় ডটকম-এর এই টিপসগুলো ফলো করেন, আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার স্লো ফোন আবার প্রাণ ফিরে পাবে। নতুন ফোন কেনার আগে অন্তত একবার ৫ নম্বর টিপসটা (অ্যানিমেশন স্কেল) ট্রাই করে দেখুন, ওটাই গেম চেঞ্জার!
আর্টিকেলটি পড়ে যদি আপনার বিন্দুমাত্র উপকার হয়, তবে কমেন্ট করে জানাবেন। আপনার কোন টিপসটা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগলো? আর বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন, হয়তো তাদেরও স্লো ফোন নিয়ে খুব প্যারা যাচ্ছে!
সবাই ভালো থাকবেন, প্রযুক্তির সাথেই থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।


