বাংলাদেশের সেরা ১০টি রড কোম্পানির নাম জানা আসলেই আমাদের জন্য খুব জরুরি বিষয়। এমনকি আমি নিজেও অনেক প্রজেক্টে কাজ করেছি এবং বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারের সাথে কথা বলেছি। আজকে আপনাদের জন্য সহজ ভাষায় সবচেয়ে আপডেট তথ্য দিচ্ছি। চলুন বিস্তারিত জেনে নিই।
রড কেনার আগে কেন সেরা কোম্পানির নাম জানবেন?
রড হলো কংক্রিটের হাড়। খারাপ রড ব্যবহার করলে ঝুঁকি অনেক। সেরা কোম্পানির রডে টেনসাইল স্ট্রেংথ ভালো থাকে, মরিচা কম ধরে এবং লম্বা সময় টেকে। বাজারে অনেক কোম্পানি আছে, কিন্তু মাত্র কয়েকটা ব্র্যান্ডই সবচেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য ও পরিচিত।
তাই আমার এমন সিদ্ধান্ত যে সেরা ১০টি রড কোম্পানির নাম আপনাদের সাথে শেয়ার করা আর কি।
বাংলাদেশের সেরা ১০টি রড কোম্পানির তালিকা ২০২৬
| ক্রমিক নং | কোম্পানির নাম | মূল বৈশিষ্ট্য ও বিবরণ |
| ১ | বিএসআরএম (BSRM) | দেশের সবচেয়ে বড় ও বিশ্বস্ত কোম্পানি। পদ্মা সেতু ও রূপপুরের মতো মেগা প্রজেক্টে ব্যবহৃত হয়। মান খুব ভালো, তবে দাম তুলনামূলক একটু বেশি। |
| ২ | আবুল খায়ের স্টিল (AKS) | বেশ জনপ্রিয় এবং সাশ্রয়ী। কোয়ালিটি ভালো এবং সাপ্লাই চেইন মজবুত। মাঝারি ও বড় প্রজেক্টে বেশি ব্যবহৃত হয়। |
| ৩ | কেএসআরএম (KSRM) | ইউরোপিয়ান টেকনোলজিতে তৈরি, মান খুব ভালো ও টেকসই। অনেক ইঞ্জিনিয়ার এটিকে প্রিমিয়াম কোয়ালিটি হিসেবে বিবেচনা করেন। |
| ৪ | জিপিএইচ ইস্পাত (GPH Ispat) | আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং কোয়ালিটি একদম টপ লেভেলের। দেশের অনেক নতুন প্রজেক্টে এরা রড সাপ্লাই করে। |
| ৫ | রহিম স্টিল (Rahim Steel) | দেশের অন্যতম পুরনো এবং বিশ্বস্ত একটি ব্র্যান্ড। এরা রডের মানের সাথে কোনো আপোষ করে না। |
| ৬ | আনোয়ার ইস্পাত (Anwar Ispat) | বেশ ভালো মানের রড তৈরি করে, যা মূলত মাঝারি প্রজেক্টের জন্য খুবই উপযোগী। |
| ৭ | রতনপুর স্টিল (RSRM) | মজবুত ও টেকসই রড উৎপাদনের জন্য বাজারে বেশ পরিচিত। |
| ৮ | এলিট স্টিল (Elite Steel) | নতুন কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাজারে এরা বেশ ভালো পারফরম্যান্স করছে। |
| ৯ | বাইজিদ স্টিল | সব সময় গ্রাহকদের জন্য মানসম্মত প্রোডাক্ট সরবরাহ করে থাকে। |
| ১০ | জাহির স্টিল (ZSRM) | বাজারে ভালো কোয়ালিটির রড তৈরি করার বেশ সুনাম রয়েছে। |
বি.দ্র: এই সেরা ১০টি রড কোম্পানি বাদেও বাংলাদেশে আরও অনেক বড় বড় রড কোম্পানি আছে। সবগুলোর নাম বলতে গেলে তালিকাটি অনেক বড় হয়ে যাবে। পরবর্তী কোনো আর্টিকেলে এই সেরা ১০টির বাইরের অন্যান্য রড কোম্পানির নাম ও তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
কোন রড কোন কাজের জন্য ভালো?
- বড় বিল্ডিং/সেতু → BSRM, KSRM, GPH
- সাধারণ বাড়ি → AKS, Rahim Steel
- বাজেট কম → অন্যান্য ভালো ব্র্যান্ড
রড কেনার সময় যা খেয়াল রাখবেন
- গ্রেড চেক করুন (৫০০ ডব্লিউ, ৬০০ ডব্লিউ ইত্যাদি)
- ওয়েট ও ডায়ামিটার মাপুন
- বিল সাথে রাখুন
- অথরাইজড ডিলার থেকে কিনুন
এখন চলুন, শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি রড কোম্পানি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
BSRM – Bangladesh Steel Re-Rolling Mills
বিএসআরএম (BSRM)-এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Steel Re-Rolling Mills (বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস)। এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ, অন্যতম প্রাচীন এবং শীর্ষস্থানীয় স্টিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। দেশের অবকাঠামো নির্মাণে এই প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপক অবদান রয়েছে।
বিএসআরএম সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠা:
-
বিএসআরএম ১৯৫২ সালে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে প্রতিষ্ঠিত হয়।
-
আকবর আলী আফ্রিকাওয়ালা এবং তার পরিবার এই কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন।
-
এটি ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) প্রথম স্টিল রি-রোলিং মিল।
২. প্রধান পণ্যসমূহ:
বিএসআরএম মূলত উচ্চমানের রড (Rebar) এবং স্টিল পণ্য উৎপাদনের জন্য পরিচিত। তাদের জনপ্রিয় কয়েকটি পণ্য হলো:
-
BSRM Xtreme 500W: এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত রড।
-
BSRM Maxima: এটি ভূমিকম্প সহনশীল বিশেষ রড।
-
BSRM Centura: এটি ইপোক্সি-কোটেড (Epoxy-coated) রড, যা মরিচা প্রতিরোধ করে এবং উপকূলীয় এলাকার জন্য বেশ উপযোগী।
-
BSRM FastBuild: এটি নির্মাণকাজ দ্রুত করার জন্য কাস্টমাইজড রড কাটিং ও বেন্ডিং সলিউশন।
-
এছাড়া তারা বিলেট (Billet) এবং স্টিল ওয়্যার (Steel Wires) উৎপাদন করে।
৩. দেশের মেগা প্রকল্প
বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি বড় এবং মেগা প্রকল্পে BSRM-এর স্টিল ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
-
পদ্মা বহুমুখী সেতু
-
ঢাকা মেট্রোরেল
-
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল (কর্ণফুলী টানেল)
-
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
-
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল
-
হাতিরঝিল প্রকল্প ও মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার
৪. বাজারের অবস্থান ও স্বীকৃতি:
-
বাংলাদেশের স্টিল ও রডের বাজারে BSRM-এর মার্কেট শেয়ার সবচেয়ে বেশি।
-
গুণগত মানের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বহুবার দেশি ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের “বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড”-এ তারা ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ স্টিল ব্র্যান্ডের স্বীকৃতি পেয়ে আসছে।
৫. সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR):
ব্যবসার পাশাপাশি বিএসআরএম শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি বা সিএসআর (CSR) কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
সংক্ষেপে, বিএসআরএম কেবল একটি কোম্পানি নয়, বরং বাংলাদেশের নির্মাণ খাত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আবুল খায়ের স্টিল (AKS)
এটি হলো বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী ‘আবুল খায়ের গ্রুপ’-এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। বিএসআরএম-এর মতোই এটিও বাংলাদেশের স্টিল ও নির্মাণ খাতের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী ব্র্যান্ড।
-
মূল প্রতিষ্ঠান ‘আবুল খায়ের গ্রুপ’ ১৯৫৩ সালে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
-
স্টিল শিল্পে তাদের যাত্রা শুরু হয় মূলত ঢেউটিন উৎপাদনের মাধ্যমে। তাদের উৎপাদিত ‘গরু মার্কা ঢেউটিন’ বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে অত্যন্ত সুপরিচিত ও জনপ্রিয় একটি নাম।
-
পরবর্তীতে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে তারা রড (TMT Bar) উৎপাদনে আসে এবং AKS ব্র্যান্ডের সূচনা করে, যা খুব দ্রুতই বাজারে শীর্ষস্থানগুলোর একটি দখল করে নেয়।
এই কোম্পানির প্রযুক্তি ও গুনগত মান
ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস (EAF) প্রযুক্তি: AKS তাদের রড উৎপাদনে অত্যাধুনিক EAF প্রযুক্তি ব্যবহার করে। রিফাইন্ড স্টিল (Refined Steel): AKS-এর সবচেয়ে বড় মার্কেটিং স্লোগান হলো তারা “১০০% রিফাইন্ড স্টিল” বা শতভাগ পরিশোধিত স্টিল তৈরি করে।
স্টিল থেকে ক্ষতিকর উপাদান (যেমন: সালফার ও ফসফরাস) দূর করে তারা আন্তর্জাতিক মানের রড উৎপাদন করে। তাদের রডগুলো ভূমিকম্প সহনশীল এবং উচ্চ তাপমাত্রায় টিকে থাকার ক্ষমতাসম্পন্ন।
আবুল খায়ের স্টিল এর প্রধান পণ্যসমূহ:
-
AKS TMT 500W: এটি তাদের প্রধান রড বা রিবার (Rebar) পণ্য, যা বাড়ি থেকে শুরু করে মেগা স্ট্রাকচার নির্মাণে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
-
গরু মার্কা ঢেউটিন (Cow Brand CI Sheet): এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত এবং জনপ্রিয় ঢেউটিন ব্র্যান্ড।
-
এছাড়া তারা কোল্ড রোল্ড কয়েল (CR Coil) এবং গ্যালভানাইজড স্টিল উৎপাদন করে।
অবদান
বিএসআরএম-এর পাশাপাশি বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে AKS-এর রডও বিপুল পরিমাণে ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
-
পদ্মা বহুমুখী সেতু
-
ঢাকা মেট্রোরেল
-
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
-
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
-
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল (কর্ণফুলী টানেল)
-
পায়রা সমুদ্রবন্দর ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র
বাজারের অবস্থান:
বাংলাদেশের স্টিল মার্কেটে AKS হচ্ছে BSRM-এর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। রড এবং ঢেউটিন—উভয় ক্ষেত্রেই আবুল খায়ের স্টিলের বিশাল মার্কেট শেয়ার রয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি এবং দেশব্যাপী শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের কারণে তারা দেশের প্রতিটি প্রান্তে তাদের পণ্য পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।
আবুল খায়ের গ্রুপ তাদের সিএসআর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে থাকে। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহে আবুল খায়ের গ্রুপ দেশব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, উন্নত প্রযুক্তি (EAF) এবং “১০০% রিফাইন্ড স্টিল”-এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবুল খায়ের স্টিল (AKS) বাংলাদেশের নির্মাণ খাতে আস্থার একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে।
কেএসআরএম (KSRM)
সেরা ১০টি রড কোম্পানির মধ্যে কবির স্টিল রি-রোলিং মিলস (Kabir Steel Re-Rolling Mills) মানে KSRM নাম ও একটি।
কারণ এটি হলো বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এবং বৃহৎ একটি ইস্পাত বা স্টিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এটি মূল শিল্পগোষ্ঠী ‘কবির গ্রুপ’ (Kabir Group)-এর একটি প্রধান অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।
কেএসআরএম সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
প্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্ব:
১৯৮৪ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়[1][3]। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রয়াত মোহাম্মদ কবির আহমেদ।
তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে মোহাম্মদ শাহজাহান এই পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরেন এবং বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আছেন শাহরিয়ার জাহান রাহাত[5]।
পণ্য ও উৎপাদন সক্ষমতা:
কেএসআরএম মূলত উচ্চমানের রড (Rebar) এবং বিলেট উৎপাদন করে থাকে[2][3]। শুরুতে এদের উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার টন, যা বর্তমানে ইউরোপীয় ‘পমিনি (POMINI)’ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৮ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে[2][6]।
ভূমিকম্প সহনশীল রড উৎপাদনের জন্য দেশে এদের আলাদা পরিচিতি রয়েছে এবং এদের উৎপাদিত রড বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET) দ্বারা পরীক্ষিত[2]।
মেগা প্রকল্পে অবদান:
বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি বড় অবকাঠামোগত মেগা প্রকল্পে KSRM-এর স্টিল ব্যবহৃত হচ্ছে[1][5]। বিশেষ করে পদ্মা সেতু নির্মাণে শর্তহীনভাবে রড সরবরাহের প্রথম অনুমোদন পেয়েছিল KSRM[7]।
এছাড়াও কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে তাদের রড ব্যবহৃত হয়েছে[5]।
কবির গ্রুপ এর অন্যান্য ব্যবসা
শুধু ইস্পাত শিল্পই নয়, কবির গ্রুপের অধীনে আরও বেশ কিছু বড় ব্যবসায়িক খাত রয়েছে:
-
জাহাজ পরিচালনা (SR Shipping): KSRM গ্রুপ বা কবির গ্রুপ বর্তমানে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে সবচেয়ে বড় সমুদ্রগামী জাহাজের মালিক[4][8]।
তাদের বহরে ২৩টি বিশাল সমুদ্রগামী জাহাজ রয়েছে (SR শিপিং-এর অধীনে), যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য পরিবহন করে[4][8]। -
শিপ ব্রেকিং (Ship Breaking): তাদের একটি বড় শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড রয়েছে, যেখান থেকে স্টিল কারখানার কাঁচামাল বা স্ক্র্যাপ সংগ্রহ করা হয়[3][4]।
-
অন্যান্য শিল্প: এর বাইরে রয়্যাল সিমেন্ট (সিমেন্ট কারখানা), কবির অক্সিজেন লিমিটেড, এবং নিজস্ব পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে[2][4]।
অবস্থান ও স্লোগান
KSRM -এর মূল কারখানাটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে (ঘোড়ামারা, বড় কুমিরা) অবস্থিত[9]।
এর কর্পোরেট অফিস ঢাকার গুলশানে এবং হেড অফিস চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত[9][10]।
প্রতিষ্ঠানটির জনপ্রিয় একটি স্লোগান হলো “শেকড় থেকে শিখরে”[2]।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মানসম্পন্ন রড উৎপাদন এবং দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে কেএসআরএম একটি বিশ্বস্ত নাম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে[1][6]।
GPH Ispat – – জিপিএইচ ইস্পাত
জিপিএইচ ইস্পাত (GPH Ispat) ও হলো বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এবং অত্যাধুনিক স্টিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি ‘জিপিএইচ গ্রুপ’-এর একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। এর মূল কারখানা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত।
জিপিএইচ ইস্পাতের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। তারা এশিয়ায় প্রথমবারের মতো অস্ট্রিয়ার ‘কোয়ান্টাম ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস (Quantum EAF)’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে রড উৎপাদন করছে।
এর মাধ্যমে শতভাগ বিশুদ্ধ, টেকসই এবং শক্তিশালী স্টিল তৈরি করা হয় বলে তারা দাবি করেন।
GPH এর প্রধান বৈশিষ্ট্য
-
উন্নত মান: জিপিএইচ ইস্পাত উচ্চমানের বিলেট এবং ভূমিকম্প সহনীয় TMT বার বা রড তৈরি করে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (ISO, BSTI) অনুযায়ী পরীক্ষিত।
-
মেগা প্রকল্প: পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল ও মেট্রোরেলের মতো দেশের বৃহৎ মেগা প্রকল্পগুলোতে তাদের রড ব্যবহৃত হয়েছে।
-
পরিবেশবান্ধব: তাদের EAF প্রযুক্তি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং এটি সাধারণ কারখানার তুলনায় কার্বন নিঃসরণ অনেক কম করে।
-
রপ্তানি: শুধু দেশের বাজারেই নয়, নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে জিপিএইচ ইস্পাত চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফলভাবে বিলেট ও স্টিল পণ্য রপ্তানি করছে।
নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আপসহীন গুণগত মানের কারণে জিপিএইচ ইস্পাত বর্তমানে দেশ ও বিদেশে একটি অত্যন্ত আস্থাশীল নাম।
আমার প্রিয় কিছু কথা
আমার প্রিয় পাঠক বৃন্দ, আমি আশা করছি আপনি বাংলাদেশের সেরা ১০টি রড কোম্পানির নাম জানতে পেরেছেন। আর আমার প্রিয় এই আর্টিকেলটি পড়ে উপকৃত হলে কমেন্ট করুন। এছাড়াও যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তবে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন আমাদের সাথে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নত্তর
বাংলাদেশে রডের জন্য সবচেয়ে ভালো কোম্পানি কোনটি?
বাংলাদেশের বাজারে BSRM, KSRM, AKS, এবং GPH Ispat সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং শীর্ষস্থানীয়।
তবে দীর্ঘস্থায়িত্ব, গুণগত মান এবং দেশের বড় বড় মেগা প্রজেক্টে ব্যবহারের রেকর্ডের দিক থেকে BSRM এবং KSRM-কে মানুষ সবচেয়ে বেশি বিশ্বস্ত মনে করে।
সাধারণ বাড়ি বা বিল্ডিং তৈরির জন্য কোন রড সবচেয়ে ভালো হবে?
সাধারণ আবাসিক বা দুই-চার তলা বাড়ি তৈরির জন্য AKS, Rahim Steel, Anwar Ispat বা GPH-এর রড খুব ভালো বিকল্প। এগুলো মানেও যেমন ভালো, তেমনি দামেও কিছুটা সাশ্রয়ী। তবে অবশ্যই আপনার নিয়োজিত ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী রড নির্বাচন করা উচিত।
২০২৬ সালের বাজার অনুযায়ী এক টন রডের দাম কত?
আমাদের এই বিষয়ে একটি পরিষ্কার আর্টিকেল সাজানো আছে দেখতে পারেন দেখুন…
আসল রড চেনার উপায় কী বা নকল রড থেকে কীভাবে বাঁচবো?
আসল রডের গায়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর কোম্পানির নাম বা লোগো, রডের গ্রেড (যেমন: 500W) এবং রডের ডায়ামিটার (যেমন: 10mm, 16mm) স্পষ্টভাবে খোদাই করা থাকে।
প্রতারণা থেকে বাঁচতে রড সবসময় কোম্পানির অথরাইজড বা অনুমোদিত ডিলারশিপ পয়েন্ট থেকে কিনবেন এবং কেনার পর অবশ্যই পাকা মেমো বা চালান সংগ্রহ করবেন।
টিএমটি বার (TMT Bar) কী?
TMT-এর পূর্ণরূপ হলো Thermo Mechanically Treated। এটি একটি বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক রড। এই রডের বাইরের অংশ খুব শক্ত হয় এবং ভেতরের কোর বা কেন্দ্র নমনীয় বা Flexible থাকে।
ফলে এই রড সাধারণ রডের চেয়ে অনেক বেশি ভার নিতে পারে এবং ভূমিকম্পের সময় সহজে ভেঙে যায় না।


